শুধু মাস্ক পরাই যথেষ্ট নয়

অনলাইন ডেস্কঃ
করোনাভাইরাসে টালমাটাল পুরো বিশ্ব। আক্রান্ত দেশের তালিকায় নাম ওঠার পর ঢাকাসহ সারাদেশে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। মাস্কসহ জীবাণুনাশক সরঞ্জাম কিনতে ছুটছেন সবাই। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সবাইকে মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ানোর দরকার নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাদের চিকিৎসায় সম্পৃক্তরাই কেবল মাস্ক পরবেন। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও একই পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে ধীরে ধীরে অনেকেই মাস্ক ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক পরছেন ভুল পদ্ধতিতে। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই শুধু মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না, ব্যবহারের পদ্ধতি সঠিক কিনা, সে বিষয়েও খেয়াল রাখার পরামর্শ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, সার্জিক্যাল ফেস মাস্কের তিনটি স্তর থাকে। যেমন বাইরের নীল রঙের বহিঃস্তর, যা ফ্লুইড রিপেলেন্ট হিসেবে কাজ করে, মধ্যস্তর যা জীবাণুকে বাধা দেয় আর সবচেয়ে ভেতরের সাদা রঙের অন্তঃস্তর, যা ময়েশ্চার শোষণ করে। বাজারে এক স্তরের মাস্কও পাওয়া যায়। কিন্তু তা খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না।
কেন ব্যবহার করবেন :দেশে বায়ুদূষণ পরিস্থিতিতে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করে থাকেন। তবে কভিড-১৯ ইস্যুতে বিশ্বব্যাপীই মাস্কের সংকট রয়েছে। তাই উপযুক্ত কারণ না থাকলে এটি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। সংস্থাটি বলছে, কভিড-১৯-এর লক্ষণ (বিশেষ করে কাশি) দেখা দিলেই কেবল মাস্ক পরুন। এ ছাড়া কভিড-১৯ থাকতে পারে- এমন কারও সংস্পর্শে থাকলেও মাস্ক পরুন। অসুস্থ না হলে বা অসুস্থ কারও দেখাশোনার দায়িত্বে না থাকলে মাস্কের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
জ্বর বা কাশির মতো লক্ষণ যাদের রয়েছে তারা এবং কেবল স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিচর্যাকারীদেরই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর সমকালকে বলেন, সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ ভুল পদ্ধতিতে মাস্ক পরিধান করে থাকেন। এতে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার বদলে ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পরা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরামর্শ অনুযায়ী, মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকার পর মুখম ল এবং মাস্কের ভেতর কোনো ফাঁক রাখা যাবে না। খোলার সময় পেছন থেকে খুলতে হবে, মাস্ক স্পর্শ করা যাবে না। সাধারণত যে মাস্ক প্রতিনিয়ত সবাই ব্যবহার করছেন সেটি সার্জিক্যাল মাস্ক। সুস্থ আর অসুস্থতার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারবিধি ভিন্ন। এর সামনের দিকটা একটু হালকা নীল রঙের এবং পেছনের দিকটা সাদা রঙের। সাদা অংশটা ফিল্টার, যা ভেদ করে জীবাণু ঢুকতে পারে না। সুস্থ ব্যক্তির জীবাণু প্রতিরোধ করতে হলে সাদা অংশটি বাইরে রেখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। কেননা, সাদা অংশ দিয়ে ফিল্টার করেই বাতাস ভেতরে ফুসফুসে ঢুকবে। নীল অংশটি মুখের ভেতরে থাকবে। তবে কেউ যখন ঠান্ডা, জ্বর, হাঁচি, কাশি বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হন, তখন নীল অংশটি বাইরে রেখে মাস্ক ব্যবহার করবেন। এতে তার মুখ থেকে ক্ষতিকর কিছু বাইরে যেতে বাধা পাবে এবং অন্য কেউ সহজে আক্রান্ত হবে না।
মাস্ক পরার সময় নাক খোলা রেখে শুধু মুখ ঢেকে না রেখে ওপরের মেটালিক স্ট্রিপ অংশটাকে নাকের সঙ্গে চেপে ও নিচের অংশটাকে থুতনির নিচে নিয়ে উভয়ই ঢেকে রাখতে হবে। ইলাস্টিক ব্যান্ড যেন সঠিকভাবে কানের চারপাশে থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
কথা বলার সময় অনেকে মাস্ক পুরো না খুলেই কথা বলেন। আসলে মাস্ক পুরোপুরি খুলেই কথা বলা উচিত। শিশুদের জন্যও আলাদা আকারের মাস্ক পাওয়া যায়। মাস্ক পরিধান করার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরার পর অযথা হাত দিয়ে তা পুনরায় ধরা উচিত নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা বলছে, ডিসপোজেল ফেস মাস্কগুলো একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। মাস্ক ব্যবহারের আগে সাবান-পানি বা হ্যান্ড রাব দিয়ে হাত পরিস্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর মাস্কটি হাতে নিয়ে দেখুন, এটি ছেঁড়া-ফাটা কিনা। মাস্কটি সোজা করে মুখে পরুন। মাস্কের ধাতব অংশটি চাপ দিন, যেন এটি নাকের আকৃতির সঙ্গে মিলে যায়। মাস্কের নিচের দিকে টান দিন, যেন এটি মুখ ও থুতনির অংশটুকু ঢেকে দেয়।
মাস্কে ময়লা লাগলে দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। খুলে ফেলার সময় প্রথমে দুই কানের ইলাস্টিক ব্যান্ড দুটিকে একসঙ্গে ধরে সাবধানে বাইরের দিক স্পর্শ না করে সাধারণভাবে খুলে ফেলতে হবে। খোলার পর এটি মুখ ও পোশাক থেকে দূরে রাখুন, যেন এই মাস্কে কোনো জীবাণু থাকলে তা পোশাক ও শরীরে না ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঢাকনাযুক্ত একটি বিনে মাস্কটি ফেলুন। এরপর আবার সাবান-পানি বা হ্যান্ড রাব দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

সূত্রঃ সমকাল