‘ভারমুক্ত’ হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

অনলাইন ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ দুটি অবশেষে ‘ভারমুক্ত’ হলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাদের ভারপ্রাপ্ত পদ ভারমুক্ত করেন। এখন থেকে পদ দুটি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত। এ বিষয়টি ছাত্রলীগের জন্য কেমন কেমন জানি লাগে। তিনি ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদটি ভারমুক্ত করার অনুরোধ জানান।

ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি তাদের ভারপ্রাপ্ত পদকে ভারমুক্ত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনুরোধ করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদকে ভারমুক্ত করতে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত ঘোষণা করলাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এখন ভারমুক্ত।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির দায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই থেকে ছাত্রলীগের শীর্ষপদ দুটি ভারপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল।

শনিবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের ইতিহাসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচিতি পর্বে উচ্চারিত হয়নি বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারিত রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর নাম।

এদিন বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক পরিচিতি পর্বে সবার নাম ঘোষণা করেন।

বেলা আড়াইটার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজনস্থলে আসেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উত্তরীয় পরিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেন ছাত্রলীগের নেতারা। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। এরপর বাজানো হয় দেশাত্মবোধক গান।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানেও দাওয়াত দেয়া হয়নি শোভন-রাব্বানীকে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ