উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমার-আসিয়ান প্রতিনিধি দল

অনলাইন ডেস্কঃ
প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে মিয়ানমার ও আসিয়ানের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে।

বুধবার দুপুরে তারা উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছান বলে জানান উখিয়ার ইউএনও মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার মামলা এবং বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের মিয়ানমার সফর শেষে এই দুই প্রতিনিধিদলের দুদিনের সফর শুরু হলো।

মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল এ নিয়ে তৃতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপের জন্য ক্যাম্প পরিদর্শনে এলো।

এর আগে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপের জন্য ২০১৮ সালে এবং চলতি বছরের জুলাই মাসেও মিয়ানমার প্রতিনিধি দল ক্যাম্প সফরে এসেছিল বলে জানান নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি জানান, সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দর পৌঁছান মিয়ানমার প্রতিনিধি দলটি। পরে সেখান থেকে তারা উখিয়া যান।

মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক চেন আইয়ে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাত সদস্য।

নিকারুজ্জামান জানান, সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দুপুর পৌনে ২টায় কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছার পরপরই ক্যাম্পটির ইনচার্জ কার্যালয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

“এতে ৪৭ জন রোহিঙ্গার একটি দল অংশ নিয়েছে; যাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন।”

বৈঠকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুবুল আলম তালুকদার, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও নিকারুজ্জামান আরও জানান, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজার শহরে রাতে অবস্থান করবেন।

বৃহস্পতিবারও তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানান ইউএনও।

দ্বিতীয়দিনের বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে এ দুই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজার ফিরে আসবেন এবং পরে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা দেবেন।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল।

এরপর গত দুই বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। তাদের কথায় উঠে আসে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ, যাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের অধীনে মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। গত ১২ ডিসেম্বর আদালতে মামলার শুনানি শেষ হয়।

এর আগে গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চারদিনের সরকারি সফরে মিয়ানমার যান। সেখানে তিনি দুই বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ