ভাত চাওয়ায় বৃদ্ধা মায়ের গলা টিপে ধরল ছেলে

অনলাইন ডেস্কঃ
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নিজের গর্ভধারিণী বৃদ্ধা মাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে ছেলে। আহত ওই বৃদ্ধা মাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া গ্রামের বৃদ্ধ ছানোয়ার শেখ ও স্ত্রী মোহিতন বেগমের নয় ছেলে-মেয়ে। তারা সবাই বিবাহিত। ছেলেদের সংসারে বাবা-মা বসবাস করে আসছেন।

বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বয়সের ভারে মা তেমন একটা চলাফেরা করতে পারেন না। এ সুযোগে দুই ছেলে শওকত শেখ ও বুলু শেখ বোনদের ফাঁকি দিয়ে বাবার কাছ থেকে প্রায় ৮ একর সম্পত্তিসহ বাড়ি লিখে নিয়েছেন।

বড় ছেলে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে বসবাস করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এলেও মা-বাবার খোঁজ নেন না। তাই বর্তমানে ছোট ছেলের সঙ্গে ওই বৃদ্ধ বাবা-মাকে থাকতে হয়। সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর থেকে অসুস্থ বাবা-মায়ের আর চিকিৎসা জোটে না। কোনো রকম দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে আছেন বাবা-মা।

চিকিৎসাধীন মা মোহিতন বেগম (৭০) বলেন, জমি লিখে নেয়ার পর ছেলেরা আমাদের ঠিকমতো ওষুধ ও খেতে-পরতে দেয় না। এ নিয়ে দুই ছেলে ও তাদের বউয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এসব নিয়ে আমার মেয়েদের সঙ্গে ঝগড়া হয়।

বৃহস্পতিবার ভাত না পেয়ে ছোট ছেলে বুলু শেখের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সে প্রথমে দুই হাত দিয়ে আমার গলা টিপে ধরে। এ ঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার ভয় দেখালে তখন ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে উঠানজুড়ে টানা হেঁচড়া করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করে। আমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করে এবং মেয়েদের খবর দেয়। মেয়েরা আমাকে নিয়ে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

তবে অভিযুক্ত ছেলে বুলু শেখ বলেন, আমি মাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করিনি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি লিখে নিয়েছি। বোনদের সঙ্গে আমার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় তারা মাকে ফুসলিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

লোহাগড়া থানা পুলিশের ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বৃদ্ধা মোহিতন বেগম লোহাগড়া থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রঃ জাগোনিউজ