আসছে ঈদঃ কৃষকের মুখে নেই হাসি

মো: সবুজ ইসলাম, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও :
কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর । এই পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কেমন কাটবে মৌলিক চাহিদা পূরনের কারিগর কৃষকের ? তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুধু কি কৃষকের না তার পরিবারে অবুঝ শিশু সন্তানটিরও। সেই অবুঝ শিশু সন্তানটি তার জন্মদাতা বাবাকে বলছে আমরা কি এই ঈদে নতুন জামা-কাপড় পাবোনা। সেই জন্মদাতা বাবা অবুঝ শিশুটির কথার কোনো উত্তর না দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে নীল আকাশের দিকে। তার কারণ অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে কৃষকের আস্থার ফসল ধানের দর পতন। বেশি দাম পাবে বলে ধার-দেনা, গৃহপালিত পশু বিক্রি করে কৃষক ধান চাষ করে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ধান বিক্রী করতে গিয়ে উৎপাদিত খরচের অর্ধেক দাম পাচ্ছেনা তারা। আর এই ঈদ কেমন কাটবে তা সংশয়ে দিন পার করছেন রাণীশংকৈলের কৃষক । এমনকি পরিবার পরিজনদের ঈদ কেনাকাটা নিয়েও দুশ্চিšতায় চাষিরা। ধানের দাম না থাকায় অনেকেই ঋণ করে ধান চাষ করলেও ঋণ পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন।

ফাইল ছবি

জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ধানের বাজারে নজিরবিহীন ধস নামার কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ কৃষকের মাঝে নেই বললেই চলে। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম ভাল না থাকায় হতাশায় ভুগছেন এই উপজেলার কৃষকরা । ঈদ মানে আনন্দ আর খুশি। আর ঈদে একটু বেশি আনন্দ বা খুশি হতে কৃষকরা ধানের উপর নির্ভর করছে । তারা তাদের ঘামঝরা পরিশ্রমের ফলে এই উৎপাদিত ফসল নিয়ে হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন। কৃষকের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই কৃষক। এই কৃষকের উপর নির্ভর করে পরিবারের সকল সদস্যদের আনন্দ । ঈদকে উপলক্ষ করে বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বাজারে রেখে আসতে হচ্ছে কৃষকের একমাত্র সম্বল এই ধান। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের মূল্য দেওয়া হলেও এখনও কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হচ্ছে না।

অভিযোগ ওঠেছে লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে চলছে নানা অনিয়ম দুর্ণীতি।

কথা হয় উপজেলার পৌরশহরের রাজু নামে এক ধান চাষীর সাথে। তিনি হতাশার সাথে জানান আড়াই বিঘা জমি বার হাজার টাকায় একটি ফসল আবাদ করবে বলে চুক্তি নেন । সেই হিসেবে তার এই আড়াই বিঘা জমিতে ধার -দেনা করে মোট খরচ করেন আঠাইশ হাজার টাকা । আর এই জমির ধান বিক্রি করে পেয়েছেন সতের হাজার টাকা । আর এই কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে এগার হাজার টাকা। শুধু রাজু নয় তার মতো অনেক কৃষকের ভাগ্যে এরকম শনিরদশা জুটেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন দোকান-পাঠ ঘুরে দেখা যায়, দোকানে শুধু চাকুরিজীবী ব্যক্তিদের কেনাকাটা করতে দেখা যায়। যার ফলে ঈদের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে উপজেলার কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেখা যাচ্ছে তাদের কপালে হতাশার ছাপ । বছরের একটি দুইটি দিন যদি একটু আনন্দ করতে না পারব তাহলে আমাদের কিসের জীবন। এমনই ক্ষোভের কথা কৃষকের মুখে মুখে। ধানের নায্য দাম না পেয়ে হতাশায় ঈদ পার করতে হচ্ছে কৃষককে।