রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসি’র সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংকট নিরসনে ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সৌদি আরবের জেদ্দা কনফারেন্স প্যালেসে ওআইসি’র ১৪তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের প্রস্তুতি সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গাম্বিয়ার নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাওয়া হবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি ইশতেহারের খসড়া চূড়ান্ত করতে সম্মত হয়। এই ইশতেহারে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ অন্যান্য ইস্যুও উল্লেখ থাকবে। গত ২৭ মে অনুষ্ঠিত পদস্থ কর্মকর্তাদের সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গাওসুল আজম সরকার।

বৃহস্পতিবারের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যকার সমস্যা ওআইসির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’

এ সময় তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে আলেমদের নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব করেন। বিভিন্ন ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রে সংঘর্ষময় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মতো মুসলিম উম্মাহর বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়াজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মন্ত্রীপর্যায়ের এডহক কমিটির বৈঠকেও যোগ দেন ড. এমএ মোমেন। এছাড়া তিনি ইন্দোনেশিয়া, মালোয়েশিয়া, ব্রুনাই ও মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এ সব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক জোট ও বাণিজ্য সুবিধা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক জোট বিষয়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সহযোগিতা ফোরাম নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী জুনে ঢাকায় এই ফোরামের উদ্বোধন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস