বাংলাদেশের জন্য জাপানের এককালীন বড় সহযোগিতা

অনলাইন ডেস্কঃ
বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী জাপান ২৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। পাঁচটি বৃহৎ প্রকল্পের জন্য জন্য দেওয়া এ সহায়তা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসট্যান্ট (ওডিএ)-এর অধীনে দেওয়া ২৫০ কোটি ডলার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য জাপানের এককালীন বড় সহযোগিতা।

গত ২৯ মে এই ২৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। বাকি ১৩০ কোটি ডলারের চুক্তি আগামী জুনে সই হবে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব রাখবে।’

এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, অন্যগুলো শুরু হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এই পাঁচ প্রকল্প হচ্ছে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১), ঢাকা মাস র্যা পিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১), বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্প (২), জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২) এবং মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প (৫)।
এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়ে গেছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য বাকি ১৩০ কোটি ডলারের চুক্তি আগামী জুনে সই হবে।

সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ২৫০ কোটি ডলারের প্যাকেজের যাবতীয় শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।’
কোন প্রকল্পে কত সহায়তা

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে লজিস্টিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রামে নতুন একটি বন্দর তৈরি করা হচ্ছে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প ২০২৪ সালে শেষ হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এই প্রকল্পের জন্য ৪০তম ওডিএ প্যাকেজের অধীনে জাপান ৩৫ কোটি ডলার ০.৯১ শতাংশ হারে ঋণ দিচ্ছে। যা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে শোধ করতে হবে।

ঢাকা শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে জন্য ঢাকা মাস র্যা পিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল)-এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য ‘ঢাকা ম্যাস র্যা পিড কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়েছে। ৪০তম ওডিএ প্যাকেজের অধীনে জাপান ০.৯১ শতাংশ হারে ৪৮ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। যা ১০ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে শোধ করতে হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্পের অধীনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো তৈরি করে দেবে জাপান। এই প্রকল্পে দুই স্তরে অর্থ সহযোগিতা দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের জন্য জাপান ১৯ কোটি ডলার দেবে। যা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে ০.৯১ শতাংশ হারে শোধ দিতে হবে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব কমানোর জন্য এবং জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এতে সহায়তা দিচ্ছে জাপান। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটি বাস্তবায়ন করবে। এ বছর এই প্রকল্পে ১৮ কোটি ডলার দিচ্ছে জাপান। যা ৩০ বছরে ০.৯১ শতাংশ হারে পরিশোধ করতে হবে।

জাপানের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাইকা এখনও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন