দাঁতের সুরক্ষায় করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ
দাঁত ভালো থাকলে মুখের ভেতর থাকবে সুস্থ। এজন্য চাই দাঁতের সঠিক পরিচর্যা।

সুন্দর হাসির জয় সর্বত্র। সেজন্য দাঁত রাখতে হবে সুস্থ ও পরিষ্কার।

দিল্লির দন্ত্যচিকিৎসক একতা চাধা জানিয়েছেন দাঁত ঝলমলে রাখার পন্থা।

সঠিক স্থানে ব্রাশ করা:
দৈনিক ব্রাশ করা দাঁতের যত্নে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। মাঢ়ীর মিলনস্থলটি ব্রাশ করে পরিষ্কার করলে দাঁতের রোগবালাই থেকে মিলবে সুরক্ষা। আর দাঁতের সমতলে ব্রাশ করা আপনাকে বাঁচাতে ক্যাভিটি থেকে। প্রতি তিন থেকে চার মাসে একবার ব্রাশ পরিবর্তন করা আবশ্যক।

সঠিক টুথপেস্ট:
টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার ব্যাপারটা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। যেটার নাম পরিচিত সেটাই কিনে আনেন। তবে এখানেই আপনাকে একটু সতর্ক হতে হবে। দাঁত যদি সংবেদনশীল হয় তবে সাধারণ টুথপেস্টের বদলে বিশেষ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে।

ফ্লস:
দুই দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করাও জরুরি। এক্ষেত্রে সবচাইতে কার্যকর পন্থা হল ফ্লস করা। দাঁতের ফাঁকের যেসব স্থানে টুথব্রাশ পৌঁছাতে পারে না সেখানেই কাজ করে ফ্লস। তাই ফ্লস করা ব্যবহার দাঁত ব্রাশ করার মতোই গুরুত্বপূ্র্ণ।

চিনিই প্রকৃত সমস্যা:
সব বয়সেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে সুস্থ দাঁতের জন্য। আর দাঁতের বিভিন্ন সমস্যার জন্য সবচাইতে বেশি দায়ী চিনি। মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া যখন চিনি ভাঙে তখন তৈরি হয় উচ্চমাত্রার অ্যাসিড যা দাঁতের এনামেলের আস্তরণ ক্ষয় করে। তাই চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া দাঁতের জন্য উপকারী।

আরেক দন্তচিকিৎসক অজয় কাকার দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ।

হালকা চাপে ব্রাশ করা:
দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বেশি চেপে ব্রাশ করার ভুলটা করেন অনেকেই; যার আসলে কোনো প্রয়োজন নেই। উল্টো এতে এনামেলের আস্তর ক্ষয় হয় বেশি, ক্ষতি হয় মাঢ়ী।

সঠিক টুথব্রাশ ব্যবহার:
ব্রাশের ব্রিসলস শক্ত হলে আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার হবে সহজে, এই ধারণা সম্পুর্ণ ভুল। আসলে নরম ব্রিসলসই দাঁত পরিষ্কার করতে সবচাইতে বেশি কার্যকর।

পর্যাপ্ত সময়:
একজন ব্যক্তি গড়ে প্রায় ৩৩ সেকেন্ড সময় দেন ব্রাশ করার জন্য, যা পর্যাপ্ত সময়ের ছয় ভাগের এক ভাগ। দুই মিনিট ধরে ব্রাশ করতে হবে, দিনে দুবার।

মুখের অন্যান্য অংশও পরিষ্কার করা:
দাঁতের সামনের অংশই ব্রাশ করা হয় বেশি। অবহেলায় রয়ে যায় ভেতরের দিক। আর দুই চোয়ালের দাঁতগুলো। দাঁতের সকল অংশ, জিহবা ও মাঢ়ীও সমান গুরুত্বের সঙ্গে পরিষ্কার করতে হবে।

একই ধরনের ব্রাশ:
বারবার একই ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহার না করে বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও খাবার খাওয়ার পরপরই ব্রাশ না করে আধা ঘণ্টা পরে ব্রাশ করা ভালো।

সূত্রঃ বিডিনিউজ