হোতা সিরাজ, আসামি ১৬

অনলাইন ডেস্কঃ
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ভাষ্য- নুসরাতকে খুনের জন্য যেভাবে ছক কষা হয়, তা ছিল ‘মিলিটারি’ প্ল্যানের মতো। এ ছাড়া খুনিরা ছিল অত্যন্ত ধূর্ত ও কঠোর মানসিক হৃদয়ের। হত্যার পর তাদের কয়েকজন আবার হলে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। কারাগারে বসে হত্যার নির্দেশ দেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। দেশব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি করা এ হত্যা মামলায় সোনাগাজী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পিবিআই। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে সেখানে। আসামির তালিকায় তার নাম থাকছে এক নম্বরে। চার্জশিটে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে হত্যার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে পুলিশ। সেখানে সবার ফাঁসি চাইবে তদন্ত সংস্থা।

আলোচিত এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার আগে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইপ্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব তথ্য জানান।

বনজ কুমার বলেন, ‘নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি পাঁচজনের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি আমরা। এ ঘটনায় কার কী অপরাধ ছিল তা তুলে আনা হয়েছে। মাদ্রাসা ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। সেখান থেকে আর্থিকসহ বহুমাত্রিকভাবে লাভবান হতো তারা। এছাড়া ওই মাদ্রাসায় ছাত্রীনিপীড়নের ঘটনাও ঘটে আসছিল। সবার স্বার্থে ঘা দিয়েছিল নুসরাত। অপরাধীদের স্বার্থের বাঁধ ভেঙে দিতে চেয়েছিল সে। তার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে তারা হত্যা করার ঘৃণ্য ছক কষে। এরপর তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার নিখুঁত পরিকল্পনা ছিল।’

পিবিআইপ্রধান সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন হয়ে অত্যন্ত ব্যথাতুর কণ্ঠে বলেন, ‘নুসরাত আমার মেয়ের বয়সী। সবেমাত্র সাবালিকা হয়েছে। এমন ফুলের মতো একটি নিষ্পাপ মেয়েকে এভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, এটা ভাবা যায়! তদন্তের সঙ্গে জড়িতরা যতই তদন্তের গভীরে গিয়েছে ততই বিস্মিত হয়েছে। ততই তারা কষ্ট পেয়েছে। এই হত্যায় ৫টি বোরকা, দিয়াশলাই, কেরোসিন ব্যবহার করা হয়েছে। আলামত হিসেবে ৩টি বোরকাসহ আনুষঙ্গিক আরও অনেক কিছু জব্দ করা হয়েছে। এই প্রথম চার্জশিট প্রদানের আগে কোনো চাঞ্চল্যকর মামলার ঘটনায় স্কেচ ম্যাপ করে ঘটনাটি সংবাদকর্মীদের কাছে তুলে ধরা হলো। এই স্কেচ ম্যাপ আদালতেও উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এ মামলার নথি ৭২২ পৃষ্ঠার। আর তদন্তে ৯২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, সমগ্র জাতি নুসরাত হত্যায় জড়িতদের শাস্তি দেখতে চায়। আশা করছি শিগগিরই এ মামলার বিচার শুরু হবে।

চার্জশিটে অভিযুক্ত যারা :নুসরাত হত্যার ঘটনায় পরিকল্পনা, অর্থ সহায়তা, প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্বসহ নানাভাবে ভয়ঙ্কর এই ছকে ১৬ জনের সংশ্নিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পিবিআই। তাদের সবাইকে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, অধ্যক্ষের শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানোর ভয় :পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে নিপীড়নের অভিযোগ ও মামলা করায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগতরা ক্ষুব্ধ ছিল নুসরাতের ওপর। প্রথমে অধ্যক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে যারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নেয় তাদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানোর ভয় দেখানো হয়। এরপর থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়।

কারাগারে ছক :চলতি বছরের ১ এপ্রিল শাহাদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, ইমরান. আব্দুল কাদের, রানা কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে অধ্যক্ষ সিরাজ তার মুক্তির ব্যাপারে জোর প্রচেষ্টা চালাতে বলেন। মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল শামীম। এর ফলে কাউন্সিলর মাকসুদ ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের সঙ্গে দেখা করে নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখানো প্রয়োজনে অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করে সে। কাউন্সিলর মাকসুদ এই কাজে শামীমকে ১০ হাজার টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে শামীমের পরিকল্পনা মতো তার দূরসম্পর্কের ভাগ্নি কামরুন্নাহার মনি ২টি বোরকা ও চার জোড়া হাতমোজা কেনে। পরে ৩ এপ্রিল শামীম, নুর উদ্দিন, কাদেরসহ কয়েকজন জেলখানায় আবার সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ওই দিন সিরাজ তাদের জানান, নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখাতে হবে। প্রয়োজনে পুড়িয়ে হত্যা করতে হবে তাকে। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। ৪ এপ্রিল পরিকল্পনা অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসার পাশে টিনশেড কক্ষে শামীম, নুর উদ্দিন, জোবায়ের, জাবেদ, পপি, কামরুন্নাহারসহ আরও কয়েকজন মিটিং করে নুসরাত হত্যার ছকের ব্যাপারে আলোচনা করে। পরদিন মাদ্রাসার ছাত্র হোস্টেলে একই ব্যাপারে পুনরায় মিটিং করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ এপ্রিল স্থানীয় ভুইয়া বাজার থেকে এক লিটার কেরোসিন কেনে শামীম নিজের হেফাজতে রেখে দেয়।

হত্যায় কার কী ভূমিকা :৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শামীম, নুর উদ্দিন, আব্দুল কাদের মাদ্রাসার সামনে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮টা থেকে ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে যার যার অবস্থানে চলে যায় অন্যরা। শামীমের পলিথিনে নিয়ে আসা কেরোসিন ও অধ্যক্ষের সামনের কক্ষ থেকে একটি কাচের গ্লাস নিয়ে ছাদের বাথরুমের পাশে রেখে দেওয়া হয়। কামরুন্নাহার মনির কেনা দুটি ও বাড়ি থেকে আনা একটিসহ মোট ৩টি বোরকা ও ৪ জোড়া হাতমোজা নিয়ে রাখা হয় সাইক্লোন সেন্টারের তিন তলায়। শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের সাড়ে ৯টার দিকে বোরকা ও হাতমোজা পরা অবস্থায় তৃতীয় তলায় অবস্থান নেয়। নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে উম্মে সুলতানা পপি তাকে জানায়, তার বান্ধবীকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে। এরপর নুসরাত দৌড়ে ছাদে যেতে থাকে। নুসরাত সেখানে পৌঁছলে পপি তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলে। নুসরাত মামলা তুলবে না এটা বলতে বলতে পপির সঙ্গে ছাদে উঠতে থাকলে কামরুন্নাহার মনি, শামীম, জোবায়ের ও জাবেদ তাদের পেছনে পেছনে সেখানে যায়। সেখানে নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়। এরপর শামীম বাম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরে এবং ডান হাত দিয়ে নুসরাতের হাত পেছন দিকে নিয়ে আসে। উম্মে সুলতানা পপি নুসরাতের গায়ের ওড়না খুলে জোবায়েরকে দিলে জোবায়ের ওড়না দু’ভাগ করে ফেলে। ওড়নার এক অংশ দিয়ে পপি ও মনি নুসরাতের হাত পেছনে বেঁধে ফেলে, অন্য অংশ দিয়ে জোবায়ের পেঁচিয়ে ফেলে পা। পায়ে গিঁট দেয় জাবেদ। সবাই মিলে নুসরাতকে ছাদের ফ্লোরে ফেলে দিলে শাহাদাত মুখ ও গলা চেপে রাখে তার। কামরুন নাহার মনি বুকের ওপর চাপ দিয়ে ধরে এবং উম্মে সুলতানা পপি ও জোবায়ের পা চেপে ধরে। জাবেদ পাশের বাথরুমে লুকানো কেরোসিনের পলিথিন থেকে কাচের গ্লাসে কেরোসিন নিয়ে নুসরাতের পুরো গায়ে ঢেলে দেয়। শাহাদাতের ইশারায় ম্যাচ দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জোবায়ের। আগুন ধরিয়ে প্রথমে জোবায়ের ছাদ থেকে নামে, এরপর উম্মে সুলতানা পপি ছাদ থেকে নেমে যেতে থাকে। ওই সময় আগের শেখানো মতে কামরুন নাহার মনি উম্মে সুলতানা পপিকে ‘কাম কাম চম্পা/শম্পা’ বলে ডেকে নিচে নেমে যায়। কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি নিচে নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। জাবেদ ও শাহাদাত হোসেন শামীম সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলায় গিয়ে বোরকা খুলে ফেলে। জাবেদ শাহাদাতকে তার বোরকা দিয়ে দ্রুত নেমে পরীক্ষার হলে ঢোকে। শামীম নেমে মাদ্রাসার বাথরুমের পাশ দিয়ে চলে যায় ও মাদ্রাসার পুকুরে বোরকা ফেলে দেয়। জোবায়ের সাইক্লোন সেন্টার থেকে নেমে মাদ্রাসার মূল গেট দিয়ে বের হয়ে যায় এবং বোরকা ও হাতমোজা সোনাগাজী কলেজের ডাঙ্গি খালে ফেলে দেয়। নুর উদ্দীন সাইক্লোন সেন্টারের নিচে থেকে পুরো ঘটনার তদারকির দায়িত্ব পালন করে। মহিউদ্দীন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম সাইক্লোন সেন্টারের দুই সিঁড়ির সামনে পাহারারত থাকে। মাদ্রাসার মূল গেটের পাশে ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ ও হাফেজ আব্দুল কাদের পাহারারত থাকে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর আসামিরা নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালায়।

খুনিদের নাটক :নুসরাত অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিচে নেমে আসতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ও নাইটগার্ড আগুন নেভায়। ওই সময় হত্যা পরিকল্পনায় যুক্ত নুর উদ্দীনও নুসরাতের গায়ে পানি দেয় এবং আব্দুল কাদের নুসরাতের ভাই নোমানকে ফোনে সংবাদ দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর তার হাতের মধ্যে কাচের গ্লাস ঢুকিয়ে রাখে চম্পা; যাতে সবার ধারণা হয় ঘটনাটি আত্মহত্যা। নুসরাত জাহান রাফিকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করা এবং হত্যার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ ও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর (সংশোধিত ২০০৩) এর ৪(১) ও ৪(১)/৩০ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রুহুল আমিনের ভূমিকা :তদন্তে উঠে এসেছে এ ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের ওপর। ৬ জনের জবানবন্দিতে তার নাম উঠে এসেছে। নুসরাত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরপরই যারা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানোর ভয় দেখানো কথা বলেন তিনি। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পরপরই কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শামীমের সঙ্গে দুইবার কথা হয় তার। শেষ দফায় ২৬ সেকেন্ডের কথোপকথনে রুহুল শামীমকে জানায়, ‘তোরা ঘটনাস্থলে আসবি না। আমি এদিকটা ম্যানেজ করব।’

প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল :নুসরাত হত্যায় জড়িতদের বাইরে স্থানীয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ছিল। তাদের গাফিলতির কারণেই এমন পরিণতি বরণ করতে হয় নুসরাতকে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে শনিবার নুসরাত হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী থানার দুই এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়। তারা হলেন- এসআই মো. ইউসুফ ও মো. ইকবাল আহাম্মদ। ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জে ও ইকবালকে খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকে এনামুল করিমের চরম গাফিলতি ছিল নুসরাতের ঘটনায়। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বিন্দুমাত্র পালন করেননি তিনি।

সূত্রঃ সমকাল