নিষিদ্ধ পণ্যের বিষয়ে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির ক্রেতা-বিক্রেতারা অন্ধকারে

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
মানহীন হিসেবে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য বাজার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের জন্য আদালতের নির্দেশনা সত্বেও তার সবগুলোই এখনও কক্সবাজারের রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে

এ প্রতিবেদক নিজেই নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের বাজারে গিয়ে এক প্যাকেট লবণ কিনেছেন যেটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা। পাশের রামুর গর্জনিয়া বাজারেও মানহীন হিসেবে চিহ্নিত ভোগ্যপণ্যের তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি পণ্য বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি।

কোন পণ্যগুলো মানহীন হিসেবে চিহ্নিত, সে সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের যথেষ্ট ধারণা নেই। অনেকেই জানেন না যে ঠিক কোন ৫২টি পণ্য মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ ৫২টি পণ্যই বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। চালাতে হবে নিয়মিত অভিযান।

রামুর গর্জনিয়া বাজারের কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ঐ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারীদের কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে তাদের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিলেও, অনেকেই এখনও আসেনি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন সোমবার বিকেলে বলেন, মানহীন হিসাবে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা এই নির্দেশ না মেনে পণ্যগুলো বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন- গত ১২ই মে মানহীন হিসেবে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্য ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এসব পণ্য ব্যবসায়ীরা সরিয়েছে কিনা? তা খতিয়ে দেখতে রামুর প্রতিটি বাজারে শিগগির ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।

বিক্রি বন্ধের নির্দেশ যে ৫২টি পণ্য :
তীর, জিবি, পুষ্টি ও রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, আরা, আল সাফি, মিজান, দিঘী, আর আর ডিউ, মর্ণ ডিউ ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, প্রাণ, মিষ্টিমেলা, মধুবন, মিঠাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্র্যান্ডের নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া ও প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশ, প্রাণ, ফ্রেস ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুঁড়া, প্রাণ ও ড্যানিস ব্র্যান্ডের কারি পাউডার, বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি, পিওর হাটহাজারির মরিচের গুঁড়া, এসিআই, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, রূপসা ব্র্যান্ডের দই, মক্কা ব্র্যান্ডের চানাচুর, মেহেদি ব্র্যান্ডের বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হুলুদের গুঁড়া, মধুমতি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, গ্রীনলেনের মধু, কিরণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, ডলফিন ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, সূর্য ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, অমৃত ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপার, তিনতীর, মদিনা, স্টারশীপ ও তাজ ব্র্যান্ডের আয়োডিন যুক্ত লবণ।