স্বর্ণকন্যা মাবিয়া-শিলার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

স্বর্ণকন্যা মাবিয়া-শিলার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক খেলার আসরে স্বর্ণ জয় করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারলেও নিজেদের পরিবারে স্বাচ্ছন্দের মুখ দেখেননি বাংলাদেশি মেয়ে মাবিয়া আক্তার ও মাহফুজা আক্তার শিলা। পিতার অবস্থা ভালো নয় বলে সারাবছরই তাদের অভাব-অনটন লেগে আছে। এই অভাবের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে সোনার পদকও বিক্রি করতে হয়েছে শিলাকে। অথচ সারাদেশ পঞ্চমুখ হয়ে আছে তাদের স্বর্ণজয়ের প্রশংসায়।

টানাপোড়নে জর্জরিত মাবিয়া-শিলার পরিবারকে এই অব্যক্ত যন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে অবশেষে এগিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্ব নিলেন পরিবার দুটির জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে। শিলার বিক্রি করা সোনার পদকটি যাতে ফেরত নেওয়া যায় সে ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।
স্বর্ণকন্যা মাবিয়া ও শিলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আসে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় মাবিয়া-শিলার বিষয়টি উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওদের জন্য ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিলার পরিবারের বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণ পদকটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত এক মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ ‘সাউথ এশিয়ান গেমসে’ (এসএ গেমস) স্বর্ণপদক অর্জন করেন বাংলাদেশের মাবিয়া আক্তার ও মাহফুজা আক্তার শিলা। নারীদের ভারোত্তলন ইভেন্টে স্বর্ণপদক জেতেন মাবিয়া এবং সাঁতারে স্বর্ণপদক জেতেন শিলা। তাদের এই অর্জন নিয়ে দেশে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু পরিবারের দুরবস্থার বিষয়টা রয়ে যায় অগোচরে। পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হতে থাকলে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মাবিয়া তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর খিলগাওয়ের সিপাহীবাগে। ঘিঞ্জি পরিবেশে টিনশেডের দুই কামরায় তাদের বসবাস। বাবা মুদি দোকানদার। আর্থিক দৈন্যতায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। ভালো ভারোত্তলক হতে যে আমিষ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন সেটাও জুটছিল না তার। অন্যদিকে শিলার বাড়ি যশোরের নোয়াপাড়ায়। তার পরিবারও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। এ কারণে সংসারের প্রয়োজনে তার জেতা স্বর্ণপদকটি বিক্রি করতে হয়েছে।