রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের হস্তক্ষেপ চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চীনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দ্রুত প্রত্যাবাসন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে (১৬ এপ্রিল) বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চীন মনে করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে চীনের জননিরাত্তা মন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করে চীন।এবিষয়ে আসিয়ান ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটটির প্রশংসা করেন চীনের মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে রাখাইন রাজ্যে এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোও একই মনোভাব পোষণ করলেও মিয়ানমার দাবি করে আসতে রোহিঙ্গাদের প্রস্তুত রয়েছে তারা।

মঙ্গলবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অন্যদিকে চীনের পক্ষে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং জননিরাপত্তা মন্ত্রী ঝাও কেঝি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফার এ বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ নিয়ে একাধিক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করেন তারা। মঙ্গলবারের (১৬ এপ্রিল) আলোচনায় চীনের মন্ত্রী দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ ও চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

সভা শেষে দুই দেশের মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বেইজিং মিউনিসিপাল পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো’র মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন