বিশ্বকাপ দলে ১৫তম সদস্য কে?

ক্রীড়া ডেস্কঃ
আজ ঘোষনা করা হবে বিশ্বকাপ দলের। সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের জন্য বাড়তি দুই থেকে তিনজনকে সংযুক্ত করা। অন্য যেকোনো সময় হলে ক্রিকেট অনুরাগী, ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎসাহ ও আগ্রহ কাজ করতো। নানা গুঞ্জন, গুজব, জল্পনা-কল্পনার ফানুস ভেসে বেড়াতো ক্রিকেটপাড়ায়।

কিন্তু তা নেই। অন্য যেকোনোবারের তুলনায় এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে শেষ মুহূর্তে ভক্ত ও সমর্থকদের উৎসাহ-আগ্রহ তুলনামূলক কম। কারণ এবারই দল নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথাবার্তা হয়েছে এবং দল সম্পর্কে আসলে একটা পূর্ব ধারণা জন্মেও গেছে সবার।

এক বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই অন্তত তিন থেকে চারবার সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে কথা বলেছেন। প্রায় মাসখানেক আগেই তিনি সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াড সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দিয়েছেন মিডিয়াকে। তারপর আরও বার দুই-তিনেক তিনি দল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার কথায় ১৩ থেকে ১৪ জনের নাম কমবেশি সবার জানা হয়ে গেছে।

এর বাইরে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও কয়েকবার দল সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন ধারণা দিয়েছেন। তাকে উদ্ধৃত করে জাগো নিউজেও অন্তত বার-তিনেক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ও আয়ারল্যান্ড সফরে বাড়তি ক্রিকেটার দলভুক্তির খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। তাতেও দল সম্পর্কে পূর্ব ধারণা মিলেছে।

এইতো গত ২৭ মার্চও জাগো নিউজে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ও আয়ারল্যান্ড সফরের সম্ভাব্য ১৭ জনের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। চমকের সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় তাতে সে অর্থে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও খুব ক্ষীণ।

ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছিল মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত থাকছেন বিশ্বকাপ দলে। আবাহনীর এবারের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ১৫ জনে থাকা একরকম নিশ্চিত করেছিলেন খোদ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। সেই সঙ্গে তিনি দ্রুতগতির বোলার তাসকিন আহমেদের থাকা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

বলেছিলেন, তাসকিনের পাশাপাশি শফিউল, ফরহাদ রেজা আর আবু জাইদ রাহির কথা ভাবা হচ্ছে। তাসকিন শতভাগ ফিট হয়ে মাঠে নেমে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলে ওই তিনজনের কেউ ঢুকে যেতে পারেন এবং তিনিই হবেন ১৫ নম্বর সদস্য। অর্থাৎ ১৫ নম্বর সদস্য হবেন একজন বোলার এবং আগে কথা ছিল তিনি হবেন একজন পেস বোলার।

এর বাইরে তামিম, লিটন, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মিঠুন, সাব্বির, মোসাদ্দেক, মিরাজ, মাশরাফি, সাইফউদ্দীন, মোস্তাফিজ ও রুবেলে থাকা একরকম নিশ্চিত। কিন্তু আজ শেষ মুহূর্তে ১৫ নম্বর সদস্য হিসেবে অফস্পিনার নাইম হাসানের নাম শোনা গেছে। বলা হচ্ছে একজন বাড়তি স্পিনার হিসেবেই নাইম হাসানকে নিয়ে যাবার কথা ভাবা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কাঁধের ইনজুরির কারণে বল করতে নাও পারেন। তাই ব্যাকআপ অফস্পিনার হিসেবে স্পেশালিস্ট নাইম হাসানকে বিবেচনায় আনা। তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কথা শুনে মনে হলো তারা দলে পাঁচজন পেসার রাখার কথাই ভাবছেন। কারণ ইংলিশ কন্ডিশনে তিন পেসার মানে অধিনায়ক মাশরাফির সাথে অন্তত আরও দুজন পেসার খেলবেনই। তার বাইরে থাকবেন মোটে একজন। কেউ অফফর্ম কিংবা ইনজুরির শিকার হলে বিকল্প মিলবে কই?

তাই পাঁচ পেসার রাখার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে নাইম হাসানের সম্ভাবনা যাবে কমে। তার চেয়ে ১৫ জনের বিশ্বকাপ দলে পেসার আবু জাইদ রাহি কিংবা ফরহাদ রেজার যে কেউ ঢুকে যেতে পাররেন। তবে অধিনায়ক মাশরাফি আর সাইফউদ্দীন দুজনই যেহেতু গতি কমিয়ে বল করেন। তাই ফরহাদ রেজার চেয়ে রাহির সম্ভাবনা বেশি।

আর আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আসরের জন্য বাড়তি যে দুজনার কথা বলা হচ্ছে, অনিবার্যভাবে তার একজন হলেন ইয়াসির আলী রাব্বি। ব্রাদার্সের এই ইনফর্ম মিডল অর্ডারের সাথে নাইম হাসানকে আয়ারল্যান্ড পাঠানোর সম্ভাবনা বেশি।

এর বাইরে আগে যত কথাই হোক না কেন, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, জহুরুল আর তাসকিনের সম্ভাবনাও খুব কম। তবে আরও একটা সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। রাহিকে আয়ারল্যান্ডের জন্য বিবেচনায় রেখে নাইমকেও ১৫ জনে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা আছে।

তার মানে কী দাঁড়াল? একটু মিলিয়ে নিন
মাশরাফি (অধিনায়ক), তামিম, সৌম্য, লিটন, সাকিব (সহ-অধিনায়ক), মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মিঠুন, সাব্বির, মোসাদ্দেক, মিরাজ, সাইফউদ্দীন, মোস্তাফিজ , রুবেল, রাহি/নাইম হাসান।

আয়ারল্যান্ডের বাড়তি দুজন- ইয়াসির আলী রাব্বি, নাইম হাসান/রাহি।