নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ী খাল থেকে মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
রামুর নিকটবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং গ্রামের পাহাড়ী খাল থেকে মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী ওই খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মৃতদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

নিহতরা হলেন, একই গ্রামের দিনমজুর নাছির উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (২২) ও তার ১৫ মাস বয়সি শিশু কন্যা নাজনিন আক্তার।

হাফিজুল-২

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের স্ত্রী আলমতাজ বেগম জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৭টায় গোসল করার জন্য খালে গেলে নাছির উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম ও তার শিশু মেয়েকে হাটু পরিমাণ পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি পুলিশকে জানালে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবুল খায়ের ও বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। এসময় শত শত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

রেহেনা বেগমের স্বামী নাছির উদ্দিন বলেন, গত ২দিন আগে রেহেনা বেগমের সঙ্গে দেবর মো: মহারাজ (১৭) এর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। কিন্তু গত শনিবার সকালে অন্যান্যদেরকে নিয়ে টাকা উপার্জনের লক্ষ্যে কয়েকদিনের জন্য আমি পাহাড়ে ফুল ঝাড়– সংগ্রহ করতে যাই। তবে এরই মধ্যে রবিবার সকাল ৮টায় এলাকার লোকজন মুঠোফোনে মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি অবগত করার পর দ্রুত নিজ বাড়িতে চলে আসি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ নাছির উদ্দিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খোলা একটি বিষের বোতল উদ্ধার করেছে এবং দেবর মো: মহারাজ (১৭) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এদিকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো ইউনিয়ন জুড়ে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।

হাফিজুল-৩

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মায়ের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শিশু মেয়ের গাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরো জানান, মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।

প্রতিবেশী ও স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত কয়েক দিন পূর্বে নিহতের স্বামী নাছির উদ্দিনের ছোট ভাই মো: মহারাজের সাথে ঝগড়া হয়।

ঘটনার পর নাছির উদ্দিনের বাড়ি থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত রেহেনা বেগমের পিতা আবদুল গফুর বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করেছে (যার নং-১ তারিখ-১৪/০২-১৬)।