‘পক্ষপাতমুক্ত একীভূত সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে শেখ হাসিনা সরকার’

অনলাইন ডেস্কঃ
‘বাংলাদেশে বৈষম্যহীন, ন্যায়সঙ্গত ও পক্ষপাতমুক্ত একটি একীভূত সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা সহজলভ্য করা এবং সকলের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।’

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের চলতি ৫৭তম অধিবেশনের ‘সাধারণ আলোচনা’ পর্বে নিজের বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য -‘আর্থিক, মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নীতির মাধ্যমে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির অসমতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা’।

স্থায়ী প্রতিনিধি তার বক্তব্যে বৈষম্য দূরীকরণে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘সমগ্র সমাজ দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ যাতে কেউ পেছনে পড়ে না থাকে, সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা অর্জন, নারী ও যুবদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান যাতে তারা দেশের মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারে। এছাড়াও বয়স্ক, বিধবা ও নির্ভরশীল পিতামাতাকে সমপরিচর্যা সুবিধা প্রদান; জাতীয়ভাবে পরিবারকেন্দ্রিক নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং শক্তিশালীকরণ; জ্ঞান ও কর্মদক্ষতাকে রূপকল্প-২০২১ এর মূল চালিকা শক্তি নির্ধারণ; ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে সকলের, বিশেষ করে নারীদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত; নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং সকলক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা আনতে নারী ও পুরুষের কাজে সমমর্যাদা ও সমমজুরি নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, ইতোমধ্যে মানবিক উন্নয়ন সূচকে টেকসই ক্রমোন্নতিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

এ সময় তিনি এলডিসি থেকে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের উত্তরণ যোগ্যতা অর্জন করার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূচক ও পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আয়-প্রবৃদ্ধি সমুন্নত রাখতে আমরা সম্প্রতি তৈরী পোশাক খাতের সর্বনিম্ন মজুরি পরপর দুইবার রিভিউ করেছি। এটি দেশের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। এ খাতে ৮০ শতাংশ নারী কাজ করেন, যার সংখ্যা প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন। জাতীয় জীবনে সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নারীরা কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স অনুযায়ী বাংলাদেশ তার লিঙ্গ বৈষম্যের ৭২% হ্রাস করেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের সদস্য। গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কমিশনের ৫৭তম অধিবেশন শুরু হয়েছে- যা আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।