মিয়ানমারের ‘বিপজ্জনক’ ৪ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করল ফেইসবুক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
‘বিপজ্জনক সংগঠন’ এর তকমা দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত চারটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্যোশাল নেটওয়ার্কে নিষিদ্ধ করে তাদের একাউন্ট মুছে দিয়েছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফেইসবুক এ খবর জানিয়ে বলেছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়িয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছে।

গত অগাস্ট থেকে ফেইসবুক মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বা দেশটিতে ভুয়া খবর ছাড়ায় এমন শতাধিক একাউন্ট, পাতা ও গ্রুপকে তাদের নেটওয়ার্ক থেকে মুছে দিয়েছে বলেও জানায়।

নৃশংস এবং বিদ্বেষমূলক স্ট্যাটাস, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দাঙ্গায় উস্কানি দিতে মিয়ানমারে ফেইসবুক ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র নৃশংসতাকে উস্কে দিতে গত কয়েক বছরে দেশটিতে ফেইসবুকের ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

এ ধরনের পোস্ট প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে দারুণভাবে সমালোচিত হতে হয়েছে।

মঙ্গলবার নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলো হল: দ্য আরাকান আর্মি, দ্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি, কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি এবং দ্য তা’য়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি।

ফেইসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সাধারণ মানুষের উপর হামলা এবং নৃশংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিষ্কার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। আমরা ভবিষ্যতে তাদের আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ দেব না।”

তা’য়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির এক মুখপাত্র ফেইসবুকে তাদের দলের পাতা আর দেখা যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, “এর ফলে আমরা জনগণের কাছে আমাদের কার্যক্রমের তথ্য জানাতে পারব না।”বাকি তিন দলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত অগাস্টে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ প্রথমে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট কয়েকটি একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল।

এবার ফেইসবুক যে চারটি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করেছে- তারা সরকারের নেতৃত্বাধীন অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই করেনি। সম্প্রতি কয়েকবছরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা প্রায়ই সংঘাতে জড়িয়েছে।

এ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি সবচেয়ে শক্তিশালী। তারা দেশের উত্তরের অংশ দখল করে আছে।

অন্যদিকে, আরাকান আর্মি ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমাঞ্চলে লড়াই করে আসছে। এ লড়াইয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে ৫ হাজার মানুষ। গত মাসে এ দলটির হামলায় মিয়ানমারের ১৩ জন সীমান্ত পুলিশ নিহত হয়।