উপজেলা কোটা বাদ দেয়ায় শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের ভোগান্তি বেড়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ
নতুন নিয়ম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের শূন্যপদের সব প্রতিষ্ঠানে আবেদনের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আবেদন করতে গিয়ে প্রার্থীদের বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। নতুন নিয়মে ভোগান্তি বেড়েছে দাবি করছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। সারাদেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ দেয়ার লক্ষ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ(এনটিআরসিএ)। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মতে, হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন বিধান চালু করা হয়েছে। আগে যেখানে প্রার্থীরা শুধু নিজ উপজেলার শূন্যপদে আবেদন করতে পারতেন, নতুন নিয়মে এবার সেই বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়েছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের একটি শূন্যপদে নিয়োগ পেতে আবেদন করতে হলে একজন প্রার্থীকে ১৮০ টাকা হারে ফি জমা দিতে হয়। আর নিজ উপজেলার বাইরে জেলা শহর, বিভাগীয় শহর, বা রাজধানী অথবা অন্য কোন পছন্দের এলাকায় কোন প্রার্থী যতগুলো শূণ্যপদে আবেদন করবেন ততবার তাকে ফি দিতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশে উপজেলা কোটা উঠে যাওয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই আবেদন প্রক্রিয়ার বিধান করছে বলে দাবি করছেন এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সারাদেশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯ হাজার ৫৩৫টি পদ শূন্য আছে। ১ম থেকে ১৪তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়োগপ্রত্যাশীদের এসব পদের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদন করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রাপ্ত আবেদনগুলো জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে বাছাইপূর্বক বিধিমোতাবেক প্রতিটি পদের বিপরীতে একজন করে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে। এরপর নির্বাচিতদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকে মোবাইল ফোনে এসএমএস করে নির্বাচিত প্রার্থীর কথা জানিয়ে দেয়া হবে।

একাধিক নিবন্ধনধারী দৈনিকশিক্ষাকে বলছেন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদনের পদ্ধতির ফলে একাধিক আবেদন করতে গিয়ে তাদের মোটা অংকের ফি দিতে হচ্ছে।

হাবিবুর রহমান নামের একজন নিয়োগপ্রত্যাশী দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘আমি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের নিবন্ধিধারী। আমার বিষয়ে পদ খালি রয়েছে তিন হাজারের বেশি। মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকায় চাকরি নিশ্চিত করতে হলে আমাকে অন্তত দুই হাজার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু এনটিআরসিএকেই দিতে হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর বাইরে আবেদনের জন্য আরো কিছু অর্থ খরচের বিষয় আছে। অসচ্ছল একজন প্রার্থীর পক্ষে এত টাকা খরচ করা অসম্ভব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসব বিষয়ে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘গত এপ্রিলে হাইকোর্ট থেকে একটি নির্দেশ আসে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে। নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় মেধা তালিকা না করে একটি জাতীয় মেধা তালিকা করতে বলা হয়। আমরা সে অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করবো। হাইকোর্টের নির্দেশেই উপজেলা কোটা বাদ করে জাতীয়ভাবে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।’

এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে দাবি করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে উপজেলা কোটা মানা হত। তাই প্রার্থীরা নিজ উপজেলায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতেন। তখন প্রার্থীরা শূন্য পদের তথ্য দেখতে পেতেন না। তাই আবেদনের প্রক্রিয়া ছিলো তূলনামূলক অস্বচ্ছ। কিন্তু এখন প্রার্থীরা নিজেদের মেধা তালিকা দেখতে পাচ্ছেন। দেখতে পাচ্ছেন শূন্য পদের তালিকাও। নিয়োগ নিশ্চিত করতে অনেক প্রার্থী একাধিক আবেদন করছেন। আর আদালতের নির্দেশে উপজেলা কোটা উঠে যাওয়ায় দোষারোপ করছেন এনটিআরসিএকে। কিন্তু এই দায় এনটিআরসিএর নয়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের নিবন্ধিত শিক্ষক মিরাজ তালুকদার দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘উপজেলা কোটা উঠে যাওয়া ইতিবাচক। উপজেলা কোটা থাকলে নিয়োগে মেধার প্রতিফলন হয়না। ওই পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নিজ উপজেলায় চাকরি করতে হত। কিন্ত্র এখন আমি সারাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছি। এ সুযোগ না হলে শুধু নিজ উপজেলার প্রতিষ্ঠানেই শুধু আবেদন করতে হতো। তবে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১৮০ টাকা করে ফি কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহন শুরু হয় গত ১৯ ডিসেম্বর, চলবে আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত।

নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে কয়েকডজন ফেসবুক পেজ, ভূইফোঁড় অনলাইন, ওয়েবসাইট ও রিটের নামে প্রতারকচক্রের উদ্ভব হয়েছে। এ চক্রটি নানাভাবে নিবন্ধনধারী ও নিয়োগপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চক্রটি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আদলে ওয়েসাইট তৈরি করেও প্রতারণা করেছে। ইতিমধ্যে নিবন্ধনকেন্দ্রীক কয়েকটি ভূয়া অনলাইন, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক গ্রুপের এডমিনদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা