ঘরে ঘরে বীর বাহাদুরের জন্য দীর্ঘকায় মানব জিন্নাতের ভোট ভিক্ষা

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বান্দরবান ৩০০ নং আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং- এর পক্ষে নৌকায় প্রচারণা আরম্ভ করেছেন- দেশের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানব জিন্নাত আলী। মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকার লিফলেট হাতে নিয়ে তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বাজারপাড়া ও ধুংরি হেডম্যানপাড়া থেকে ওই প্রচারণা শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার দুপরে নাইক্ষ্যংছড়িতে ঘরে ঘরে গিয়ে জিন্নাত নৌকার জন্য ভোট ভিক্ষা চান। জিন্নাতকে দেখে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। তাঁর সঙ্গে ছবি ও সেলফিতে আবদ্ধ হতে অনেকে প্রতিযোগিতাও চালিয়েছেন। এমনকি থানার নারী পুলিশ সদস্যরাও জিন্নাতকে দেখতে ছুটে যান। এসময় নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জনি সুশীল, উপজেলা যুবলীগ নেতা ফাহিম ইকবাল খাইরু, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বদর উল্লাহ বিন্দু, সাধারণ সম্পাদক উবাচিং মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক মুমু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রচারণা চালানোর সময় দীর্ঘকায় মানব জিন্নাত আলী বলেন, ‘বান্দরবান- ৩০০ নং আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং পাঁচ বার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এলাকায় তাঁর সুনাম রয়েছে। ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজও চলছে এলাকায়। নির্বাচিত হয়ে মানুষের সঙ্গে থেকেছেন। এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। এসব কারণে আমি তাঁকে পছন্দ ও গ্রহণযোগ্য মনে করি। তাই সকল ভোটারদেরকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান করছি।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামে জিন্নাত আলীর বাড়ি। বৃদ্ধ বাবা আমির হামজার এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত তৃতীয়। অন্য সবার মতো স্বাভাবিক ছিল জিন্নাতের গড়ন। কিন্তু ওর বয়স যখন ১২ বছর, সেই সময় থেকেই দ্রুত উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রতিবছর দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট উচ্চতা বেড়ে জিন্নাত এখন ৮ ফুট ২ ইঞ্চির এক মানব। এ বিষয়ে দেশের সব শীর্ষ পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচারিত হলে- কক্সবাজার ৩ (সদর-রামু) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা পান জিন্নাত। প্রধানমন্ত্রীও জিন্নাতের সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। এর পর জিন্নাতকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান, গ্রামে বাড়ি নির্মাণ ও তাঁর ব্যবসার জন্য সরকারিভাবে দোকান নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সকল ঘোষণা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।