ড. কামাল হোসেনের দুঃখ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্কঃ
রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুক্রবারের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুক্রবার স্মৃতিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। সে সময় হঠাৎ করেই তার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে জানতে চাওয়া হয়।

ড. কামাল বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সবিনয়ে জানান, বুদ্ধিজীবী দিবস গভীর অনুভূতির বিষয়। তিনি এই দিনে এখানে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। সাংবাদিক আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি একই মনোভাব প্রকাশ করেন। ওই মনোভাব প্রকাশ করার পর তৃতীয়বার ভিড়ের মধ্যে থেকে অনবরত দুই থেকে তিনবার জামায়াত জামায়াত শব্দ শুনতে পাই। তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল এবং আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমার বক্তব্য কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

উল্লেখ্য, শুক্রবার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে ক্ষেপে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামাল বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, লোভ-লালসা নিয়ে লুটপাট করছে, তাদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত আমরা করবই। যত শক্তিধর হোক তারা, দেশের মালিক জনগণের কাছে তাদের নত হতে হবে, তাদের পরাজয় হবেই।

সাংবাদিকরা এ সময় স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. কামাল বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এরপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকেন। একজন বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে।

৮১ বছর বয়সী ড. কামাল এ সময় ক্ষেপে ওঠেন। তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বলো। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে স্মৃতিসৌধকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। আশ্চর্য!

পাশে থাকা দু-একজন নেতা সে সময় কামাল হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন চালিয়ে গেলে ধমকে ওঠেন কামাল। বলেন, শহীদদের কথা চিন্তা কর। হে হে হে হে করছ! শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ। পরে ড. কামাল প্রশ্ন করেন, ‘আশ্চর্য! তোমার নাম কী? … কোন পত্রিকার? … টেলিভিশন, জেনে রাখলাম।