অভিনেতাদের আপন করে নিতেন আমজাদ হোসেন: ফারুক

অনলাইন ডেস্কঃ
অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নির্মাতা আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক বলেছেন, এই ধরনের গুণী মানুষের কখনো মুত্যু হয় না, তারা মৃত্যুঞ্জয়ী।

সম্প্রতি স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হওয়া আমজাদ হোসেন শুক্রবার থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

চিত্রনায়ক ফারুককে নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন তার অন্যতম সেরা দুই চলচ্চিত্র ‘নয়নমনি’ ও ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’।

তার মৃত্যুর খবরে দুঃখ-ভারাক্রান্ত ফারুক স্মরণ করেন সঙ্গে কাজের দিনগুলোর কথা।

তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের সংসারের মানুষ ছিলাম। আমজাদ সাহেব তার জীবনে অনেক ছবি বানিয়েছেন কিন্তু ‘নয়নমনি’ এবং ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র মতো ছবি আর বানাতে পারেননি। এটা টিমওয়ার্কের জন্য পারেননি হয়ত। তার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, এটা আমি মানতে পারি না যে, তিনি মারা গেছেন। তিনি আছেন-এ সম্পর্ক ঐশ্বরিক। এটা আমরা কাজ যখন করতাম তখন আমজাদ সাহেব শীতের দিনে হাসতে হাসতে লেপের নিচে শুয়ে পড়ত, বলত- আমার একটা জায়গায় সিকোয়েন্স লিখতে প্রবলেম হচ্ছে। বলেন তো, ওই জায়গাটা কেমন হলে ভালো হয়?

“সে সময় আমি, টেলিসামাদ, কখনো এ টি এম শামসুজ্জামানকে পাওয়া যেত। আমরা কাজ করেছি না খেয়ে, খেয়ে-এত আপনতা এত সুন্দর সম্পর্ক আমার মনে হয় ফিল্মে আট দশজন ডিরেক্টর ছিলেন, প্রডিউসার ছিলেন তাদের সাথে যে সম্পর্ক ছিল আর্টিস্টদের বলাই যেত না এটা আর্টিস্ট ও ডিরেক্টরের সম্পর্ক। তাদের মধ্যে একজন আমজাদ হোসেন। মনে হত আমরা একই পরিবারের লোক। সেখান থেকে এত সুন্দর করে কথা বলছি, এত সুন্দর করে নতুন সিনেমার কথা ভাবছিলেন-কী থেকে কী হয়ে গেল!”

আমজাদ হোসেন সর্বশেষ যে কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন, তা তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলে জানান ফারুক।

“সেই লাল মটরসাইকেলটা, বুঝলা না? ছেলেটি তার প্রেমিকাকে আর সরাতে পারল না। সকাল বেলায় সে দেখে, রাস্তার মধ্যে কে বা কারা তাকে মেরে ফেলে রেখে গেছে।”

আমজাদ হোসেন এভাবে চলে যাবেন, তা ভাবনায় আসেনি জানিয়ে ফারুক বলেন, “এই যে আমরা দুঃখ প্রকাশ করি, দুঃখ প্রকাশ কী আর করব, আমজাদ চলে গেছেন আমার কতো আদরের লোক, কতো আদরের বড় ভাই, তিনি যে এভাবে চলে যাবেন বলে কয়ে, আমি ভাবতেও পারি না। তিনি চিরতরে চলে গেলেন।

“আমি মনে করি না এ ধরনের গুণী মানুষেরা কখনো মরে। তারা মৃত্যুঞ্জয়ী হয়। তারা মৃত্যুকে জয় করে ফেলে। চিরকাল বেঁচে থাকে। আমজাদ চিরকাল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। আমজাদ আমার মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তার সৃষ্টির কিছু অংশ তিনি আমাকে নিয়ে করেছিলেন। দুটো ছবি। তারপরও আমরা অনেক সুন্দর করে কথা বলতাম, বসতাম, আড্ডা মারতাম এবং ডিজিটাল সিস্টেমের ছবি নিয়ে কথা বলতাম।

“তিনি বলতেন, ডিজিটাল সিস্টেমকে আমরা ভয় করি না। এ সিস্টেমেই ছবি বানাতে হবে।”

হতাশা প্রকাশ করে ফারুক বলেন, “তুমিতো আমাকে বলেছিলে, আমরা আবার সংসার পাতব। সংসারটা পেতে তারপর যেতে…।”

সূত্রঃ বিডিনিউজ