নির্বাচনের আগে-পরে হিন্দুদের নিরাপত্তায় ১০

অনলাইন ডেস্কঃ
অতীতের মত নির্বাচনের সময় দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর যেন হামলা-নির্যাতন না হয় সেদিকে নজরদারি বাড়ানোসহ ১০টি দাবি জানিয়েছে জাগো হিন্দু পরিষদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

এ সংগঠনের উপদেষ্টা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, ”জাতীয় নির্বাচন এলেই হিন্দুরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়। তাদের ওপর হামলা করে আক্রমণ করে ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী।

”এবারের নির্বাচন সামনে রেখেও একই ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যাতে অতীতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন এখনই সতর্ক হতে হবে।”

পাশাপাশি দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে চলে যাওয়ার মনোভাব দূর করতে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

“আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বসবাস করতে চাই। সব ধর্মের সমান অধিকার চাই। মুক্তিযুদ্ধ করে অর্জিত দেশে কেন হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতিত হবে? কেন তাদেরকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে?”

নিজ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা পালিয়ে যাবেন না, দুর্বল হবেন না। কোনো অন্যায় হলে তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে হবে। তাহলে সেটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে।”

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাগো হিন্দু পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় বণিক বলেন, “নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নির্যাতন বেড়ে যায়। এই নির্যাতনকারীদের তালিকায় পরাজিত দল এবং বিজয়ী দলের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা যায়।”

কিন্তু বিভিন্ন ‘অজুহাত’ দেখিয়ে প্রশাসন সে সময় নীরব ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

১০ দফায় যা আছে

# আগের নির্বাচনগুলোতে যেসব স্থানে বেশি হামলা নির্যাতন হয়েছে, যেখানে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের’ সংখ্যা তুলনামূলক কম এবং যেখানে তারা আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় আছেন, সেখানে নজরদারি বাড়ানো এবং তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রনিতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।

# নির্বাচনের পর বিজিবি তুলে নিলে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

# সরকারি দলসহ সব রাজনৈতিক দলে আশ্রয় গ্রহণকারী ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের’ বাহিষ্কার করতে হবে।

# ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।

# সব রাজনৈতিক দলে ‘সংখ্যালঘু নিরাপত্তা সেল’ গঠন করতে হবে।

# সংবিধানের চার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

# ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়’ গঠন করতে হবে।

# সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করতে হবে।

# সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।

# অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।

অন্যদের মধ্যে সংগঠনের উপদেষ্টা ধীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নিতাই দেবনাথ, ইসকন ফুড ফর লাইফের প্রধান রুপানো গোরদাস ব্রহ্মচারি এবং কালিপদ মজুমদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ