উইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান বেঁধে দিলেন সুর। মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন ধরে রাখলেন চাপ। মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছোট লক্ষ্য পেয়ে বাকিটা সারলেন ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাই সহজেই হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মাশরাফির দুইশতম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ১৯৬ রানের লক্ষ্য ৮৯ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি তাদের দশম জয়।

বাংলাদেশের বোলিং যতটা ভালো হলো ফিল্ডিং হলো ততটাই খারাপ। হাত থেকে ছুটল সহজ-কঠিন অনেক সুযোগ। নয়তো সিরিজে এগিয়ে যেতে আরও ছোট লক্ষ্য পেতে পারত বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে দুয়েকটা বল নিচু হয়েছিল। উইকেট একটু মন্থরও ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বল সহজেই এসেছে ব্যাটে। বলের ওঠা-নামাও খুব একটা ছিল না। বাংলাদেশ জিততে পারতো আরও সহজেই। ব্যাটসম্যানরা উইকেট ছুড়ে আসায় তা হয়নি।

আলগা শটে আউটের শুরু চোট কাটিয়ে দলে ফেরা তামিম ইকবালকে দিয়ে। অফ স্পিনার রোস্টন চেইসের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে বাঁহাতি এই ওপেনার ধরা পড়েন পয়েন্টে।

আগের সিরিজে ওপেনিংয়ে দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে একটি ৯০ রানের ইনিংস খেলা ইমরুল কায়েস তিনে নেমে ব্যর্থ হন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান টিকেন মাত্র দুই বল। ওশান টমাসের প্রথম বলে ব্যাটের কানায় লেগে পেয়ে যান বাউন্ডারি। পরের বলে লাইন মিস করে বোল্ড।

কেমার রোচের ‘নো’ বলের জন্য ক্যাচ দিয়েও ৫ রানে বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছিলেন দারুণ। আরও অনেকবারের মতো ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান দৃষ্টিকটু শটে নষ্ট করেন ভালো শুরুটা। কিমো পলের স্টাম্পের বল ক্রসব্যাটে মিডউইকেট দিয়ে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরেন বোল্ড হয়। ৪১ রান করে লিটনের বিদায়ে ভাঙে তার সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের ৪৭ রানের জুটি।

দলে ফেরা সাকিব শুরু থেকেই ছিলেন স্বচ্ছন্দ। দ্রুতই জমে যায় মুশফিকের সঙ্গে তার জুটি। বাংলাদেশ পায় ৫৭ রানের জুটি। মাত্রই বোলিংয়ে আসা রভম্যান পাওয়েলকে বেরিয়ে এসে উড়াতে চেয়েছিলেন সাকিব। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ যায় কিপারের গ্লাভসে।

চার ওপেনারকে নিয়ে খেলা বাংলাদেশ ছয়ে নামায় সৌম্যকে। এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ফেরান চেইস। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন মুশফিক। এই কিপার ব্যাটসম্যান ৭০ বলে পাঁচ চারে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। এক ছক্কায় মাহমুদউল্লাহ করেন ১৪।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল মন্থর। তৃতীয়বারের মতো কোনো ওয়ানডেতে দুই প্রান্তেই স্পিন দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ বেঁধে রাখে ব্যাটসম্যানদের।

মিরাজ-সাকিবের আঁটসাঁট বোলিংয়ে রানের জন্য সংগ্রাম করছিলেন কাইরন পাওয়েল ও শেই হোপ। কাইরন পাওয়েলকে ফিরিয়ে ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাকিব।

দুই বছরের বেশি সময় পর ওয়ানডে খেলতে নামা ড্যারেন ব্রাভো জীবন পান ১৩ ও ১৮ রানে। মাশরাফির বলে দুর্দান্ত এক ক্যাচে তাকে ১৯ রানে থামান তামিম। বোলারদের স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকা হোপ বাংলাদেশ অধিনায়কের দ্বিতীয় শিকার।

রানের গতিতে দম দিতে শুরু থেকেই চড়াও হতে চেয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ার। বিপজ্জনক বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে দ্রুত ফেরান মিরাজ। সফরে পঞ্চমবারের মতো হেটমায়ারের আউট হলেন এই অফ স্পিনারের বলে।

মিরাজের মতো দ্বিতীয় স্পেলে নিজের প্রথম বলে উইকেট পান মাশরাফিও। ফিরিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকে। থিতু হওয়া মারলন স্যামুয়েলসের বাধা সরান রুবেল।

১২৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রতিরোধ গড়ে রোস্টন চেইস ও কিমো পলের ব্যাটে। সপ্তম উইকেটে মেলে প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি।

৩৮ বলে একটি করে-ছক্কা চারে ৩২ রান করা চেইসকে ফিরিয়ে ৫১ রানের জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে দুই ছক্কা ও ১ চারে ৩৬ রান করা পলকেও বিদায় করেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে নেন দেবেন্দ্র বিশুর উইকেট।

শেষ ১০ ওভারে ৬৬ রান নিয়ে দুইশ রানের কাছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭১টি ডট বল খেলা দলটির ইনিংসে চার ১০টি, ছক্কা তিনটি।

নিজের প্রথম বলে চার হজম করেছিলেন মাশরাফি। দশম ওভারের শেষ বলে ছক্কা। মাঝের সময়টায় আঁটসাঁট বোলিংয়ে কঠিন করে তুলেছিলেন ব্যাটসম্যানদের কাজ। ৩০ রানে ৩ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। মুস্তাফিজ ৩ উইকেট নেন ৩৫ রানে।

আগামী মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ১৯৫/৯ (কাইরন পাওয়েল ১০, হোপ ৪৩, ব্রাভো ১৯, স্যামুয়েলস ২৫, হেটমায়ার ৬, রভম্যান পাওয়েল ১৪, চেইস ৩২, পল ৩৬, রোচ ৫*, বিশু ০, টমাস ০*; মিরাজ ১/৩০, সাকিব ১/৩৬, মুস্তাফিজ ৩/৩৫, মাশরাফি ৩/৩০, রুবেল ১/৬১)

বাংলাদেশ: ৩৫.১ ওভারে ১৯৬/৫ (তামিম ১২, লিটন ৪১, ইমরুল ৪, মুশফিক ৫৫*, সাকিব ৩০, সৌম্য ১৯, মাহমুদউল্লাহ ১৪*; রোচ ০/৩৫, চেইস ২/৪৭, টমাস ১/৩৪, পল ১/৩৭, বিশু ০/৩০, রভম্যান পাওয়েল ১/৭)

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মাশরাফি বিন মুর্তজা