সর্বোচ্চ ছাড় দিতে চায় আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্কঃ
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত সংলাপে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগে। তবে ঐক্যফ্রন্টের দাবির তালিকায় সংবিধানবিরোধী কিছু থাকলে সেটা মানার কোনো সুযোগ থাকবে না।

অর্থবহ সংলাপের প্রত্যাশায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলছেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। তাদের সম্মানে গণভবনে নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই খাওয়ার মেন্যু তৈরি করছেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্যদের চাচা বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্য। আর তাকে ব্যক্তিগত জীবনে চাচা বলেই সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ড. কামাল হোসেনকে গণভবনে সংলাপে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ নিয়ে তিনি বেশ খোশমেজাজে রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে সংলাপের প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতার সঙ্গে অল্পবিস্তর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার রাতেও দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে সংলাপের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে এখনও দলগত কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের তালিকাও ঠিক করা হয়নি। আজকালের মধ্যে এ তালিকা ঠিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে দলের সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।

এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে খোলামেলা আলোচনা হবে। সেইসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সংলাপ আলোচনার টেবিলে তোলা হবে। আলোচনার টেবিলেই সিদ্ধান্ত হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার কয়েকটি দাবিই সংবিধানসম্মত নয়- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা তাদের দাবিতে অটল থাকবে, না সরে আসবে- দেখেন না কী হয়?

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক সমকালকে জানিয়েছেন, সংলাপে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোলা মন নিয়েই সংলাপ করতে চাইছেন। তিনি এরই মধ্যে তার রাজনৈতিক উদারতার প্রমাণও দিয়েছেন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই সরকারের প্রত্যাশা। সে লক্ষ্যে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়গুলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জানানো হবে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাস্তবসম্মত দাবি পূরণের বেলায় অবশ্যই ছাড় দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের দাবির তালিকায় সংবিধানবিরোধী কিছু থাকলে সেটা মানার কোনো সুযোগ থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। গতকাল ড. কামাল হোসেনের কাছে পাঠানো চিঠিতে এই আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে কোনোক্রমেই ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। তবে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংলাপে ধৈর্য প্রদর্শন করা হবে। সংলাপ সাফল্যের জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালানো হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একদিনেই অর্থবহ সংলাপ শেষ করার চেষ্টা রয়েছে আওয়ামী লীগে। কোনো কারণে সেটা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে সংলাপ-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে সংলাপ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আবদুর রহমান।

সূত্রঃ সমকাল