সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের আশা বার্নিকাটের

অনলাইন ডেস্কঃ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি মনে করেন, দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সব রাজনৈতিক দল আন্তরিক হবে।

সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বিদায় সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন বার্নিকাট। বাণিজ্যমন্ত্রীও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যই কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। সরকারও চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।

সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত একসঙ্গে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তোফায়েল আহমেদ জানান, বার্নিকাট নির্বাচনসহ অন্যান্য বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, একটা দেশ অস্থিতিশীল হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কাজ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গঠন করেছে। এটা কোনো জাতীয় জোট নয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য একটা জোট। এই জোটের কোনো দাবি সংবিধানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নয়। ঐক্যজোট সিলেটে ২৪ তারিখ জনসভা করবে। এরপর চট্টগ্রাম যাবে, রাজশাহী যাবে। মানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। সুতরাং নির্বাচনে কেউ আসবে না তা ভাবার কারণ নেই।

মামলা-মোকদ্দমার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো মামলা বা কাউকে গ্রেফতার করা হয় না। বিএনপি না এলেও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে সরকার নির্বাচন চায়। তবে কোনো দল অংশগ্রহণ করবে কি না সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যদি সব দল ভোটে অংশ নেয়, শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করতে পারে ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সহিংসতা না হয়, সেটাই হবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিএনপি অংশ না নিলে সেই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে আমরা সেটাই চাই।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বলেছেন কি না- সেই প্রশ্নে বার্নিকাট বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশ নিন, সবার প্রতিই আমাদের এই আহ্বান। গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরিরও আহ্বন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে মইনুল হোসেন যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, মইনুল হোসেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মোশতাক ও ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে দল করেছিলেন। ২০০৫ সালের ৩০ ডিসেম্বের শিবিরের প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি জামায়াত-শিবিরের তারিফ করে বক্তৃতা করেছিলেন। ফলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা না থাকলেও আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। পোশাকের দাম প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এরই মধ্যে ক্রেতারা দাম কিছুটা বাড়িয়েছেন। আরও বাড়াবে।

আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করে। তুলায় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। আমদানির সময় আমেরিকার সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাকটেরিয়া বিষয়ে সনদ দেয়। কিন্তু আমেরিকা থেকে তুলা দেশে পৌঁছাতে ৩২-৩৩ দিন সময় লাগে। এ সময় নতুন করে ব্যাকটেরিয়া তৈরির আশঙ্কা থাকে। যে কারণে দেশে পৌঁছানোর পর ফের পরীক্ষা করার শর্ত থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন মার্শা বার্নিকাট।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ জন্য দরকার অবকাঠামো উন্নয়ন- বিশেষ করে বিদ্যুৎ, সড়ক অবকাঠামো, সমুদ্র ও বিমানবন্দরের উন্নয়ন দরকার। এসব খাতেও আমেরিকার কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী বলে তিনি জানান।