কত দফায় যায়, দেখি: হাসিনা

অনলাইন ডেস্কঃ
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে সংলাপের আহ্বান সম্বলিত চিঠি পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সৌদি সফর করে ফেরা প্রধানমন্ত্রী সোমবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, “আগে চার দফা ছিল। এখন সাত দফায় পৌঁছেছে। দফাটা আর কতদূর যায়, তারপরে আমি আমার বক্তব্য দেব।”

“এখন তো কেবল সাত দফা, আর কত বাড়ে দেখেন না,” হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সম্বলিত সাত দফা দিয়েছে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যে জোটে বিএনপিও রয়েছে।

রোববার এক বৈঠকের পর ফ্রন্টের নেতা আ স ম রব বলেছেন, তারা ৭ দফা নিয়ে সংলাপে বসতে সরকারকে চিঠি দেবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “চিঠিটা এখনও পাইনি। চিঠিটা তৈরিই হয়নি। এটা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিবটা কী বলেন? চিঠি পেলে তখন দেখা যাবে।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধরনের নতুন জোটকে স্বাগত জানালেও তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

“এই গাছের ছাল ওই গাছের বাকল নিয়ে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে। তারা ভালো কাজ করুক সেটাই চাই।”

এক সময়ের নেতা কামাল হোসেনের বিএনপির সঙ্গে যাওয়া নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা; তেমনি বিএনপির শীর্ষনেতাদের আদালতে দণ্ড পাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

“কারা কারা এক হল, সেটাও দেখতে হবে। যারা এখানে ঐক্যবদ্ধ হল, তারা কোন ধরনের, কোন চরিত্রের, বাচনভঙ্গি কেমন, এমনকি মেয়েদের প্রতি এমন কটূক্তি করতে পারে…

“এখানে স্বাধীনতাবিরোধী আছে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের মদদদানকারী বা ইনডেমনিটি দিয়েছিল, তাদেরকে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল, এমনকি যারা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে, এদেশকে পাঁচ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এই রকম সব ধরনের লোক এক জায়গায় হয়েছে।”

ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় মইনুল হোসেনের আচরণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “জোটের একজন সদস্য, যে আপনাদের একজন সাংবাদিককে যে ধরনের নোংরা কথা বলতে পারে, তারা সবাই এক।

“এই রকম একটা জোট হওয়া আমরা খারাপ চোখে দেখছি না। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করুক।”

জরুরি অবস্থার সময় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে মইনুলের থাকা প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “এরাই তো জরুরি অবস্থা জারি থেকে শুরু করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা, এরেস্ট করা- সবই করেছে।

“আবার এর মধ্যে অনেকেই তো ছিল আমাদের দলে। আওয়ামী লীগ থেকে তারা দূরে চলে গেছে, এখন তারা জোট করেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।”

কামালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ড. কামাল হোসেন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন কাদের সাথে… বাংলাদেশে ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচার করার ফলে যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার নেতৃত্বে হচ্ছে বিএনপি দল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। মানি লন্ডারিং… এই মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য থেকে বের হয়েছে বিদেশ থেকে; এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার কারণে সাজাপ্রাপ্ত।

“আবার এতিমের মামলা আত্মসাতের মামলা যিনি করেছিলেন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তিনিও এই ঐক্যের সঙ্গে আছেন। এরা সব এক হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী, যারা সাজাপ্রাপ্ত তারা এর মধ্যে আসছে।

“রাজাকার, আল বদর বাহিনী সৃষ্টি করে একাত্তর সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে, তারাও এই গ্রুপে আছে। যারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ যারা সৃষ্টি করেছিল, আগুন দিয়ে ‍পুড়িয়ে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষ হত্যা করছে.. সেই মানুষ হত্যাকারী, তারা সব এক হয়েছে।

“খুনি, দুর্নীতিবাজ, মানিলন্ডারিং, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা, অগ্নি সন্ত্রাসী- এরা যেখানে এক সেখানে রাজনীতিটা কোথায়? আমি তো দেখছি কয়েকটি স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে।”

সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আছে ঐক্যফ্রন্টের সাতদফার মধ্যে; পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে সেটা করার সুযোগ এখন আর নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, “কামাল হোসেন সাহেবকে এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেন না… এত নীতি কথা বলেন, উনি তো সংবিধানের প্রণেতা। সংবিধানের যিনি প্রণেতা, বাহাত্তরের সংবিধানটা তো তিনি তৈরি করেছিলেন, তাই না?

“বাহাত্তরের সংবিধানের কোনো কোনো অনুচ্ছেদে তিনি এখন আপত্তি করেন কী কারণে? এটা কি তার গণতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা, তার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলার স্বাধীনতা আছে, সব কিছু মুক্ত। এমনকি আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, সবাই স্বাধীন। আদালত বলেন, সাংবাদিক বলেন সবাই যে স্বাধীনতা ভোগ করছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা আছে।

“রাজনীতির ক্ষেত্রে কেউ যদি ঐক্য করেন, তাদের স্বাধীনতা আছে। স্বাগত জানাই। তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, রাজনৈতিকভাবে সাফল্য পায়, অসুবিধা কী?”

সূত্রঃ বিডিনিউজ