জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতদূর যাবে

মহিউদ্দিন খান মোহনঃ
অবশেষে প্রধান উদ্যোক্তাদের একজনকে মাইনাস করেই যাত্রা শুরু করল ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের নেতারা উপস্থিত থাকলেও গরহাজির ছিলেন বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বি. চৌধুরী। খবরে বলা হয়েছে, শর্ত নিয়ে দর কষাকষিতে মতৈক্য না হওয়ায় বি. চৌধুরী জাতীয় ঐক্য থেকে সরে গেছেন। তিনিও একই দিনে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তার ও তার দলের অবস্থান জানিয়েছেন।

বেশ কিছুদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল কথিত ‘জাতীয় ঐক্য’, যার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও ডা. বি. চৌধুরী। তাদের এ যৌথ নেতৃত্বের জাতীয় ঐক্য শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ লাভ করবে, নাকি তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে- এ সন্দেহ অনেকেই করেছিলেন। বিশেষত বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী চৌধুরীর কথাবার্তাকে অনেকেই জাতীয় ঐক্যের পথে অন্তরায় হিসেবেই দেখেছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং চারজন শীর্ষ নেতার বক্তৃতা দেওয়ার ঘটনা অনেকের মনেই এ ধারণার জন্ম দিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য বোধ করি একটি অবয়ব ধারণ করতে চলেছে। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনা সে ধারণাকে সংশয়ের আবর্তে নিক্ষেপ করে। কেননা, বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্বাহেপ্ত আভাস দেওয়া হয়েছিল, সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য বিষয়ে তারা সেদিন একটি ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল- বিকল্পধারা ও গণফোরামের কর্তৃত্বে বিএনপি আদৌ ঐক্য প্রক্রিয়ায় শামিল হতে পারবে কি-না।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কথা বিএনপি বেশ আগে থেকেই বলে আসছিল। খালেদা জিয়া মুক্ত থাকা অবস্থায়ই জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন। তিনি কারারুদ্ধ হওয়ার পর দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন। এরই মধ্যে বি. চৌধুরী, আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নার যুক্তফ্রন্ট এবং ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম দেশে মুক্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়। তাদের এ উদ্যোগকে উদারভাবে সমর্থন জানায় বিএনপি এবং তাতে তারা শামিল হতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে একাধিকবার বিকল্পধারা সভাপতি বি. চৌধুরীর বাসায় গিয়ে আলোচনা করেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে। তেমনি একটি আলোচনার টেবিলে বি. চৌধুরীপুত্র ও বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী চৌধুরী ঐক্য হলে যুক্তফ্রন্টকে দেড়শ’ আসন দিতে হবে বলে দাবি জানান। তার এ দাবিকে অযৌক্তিক এবং ঐক্য প্রক্রিয়াকে গোড়াতেই বিনষ্ট করার অভিপ্রায়প্রসূত বলে সচেতন মহল ধরে নেয়। এরই মধ্যে ঘটে যায় নানা ঘটনা। মাহী চৌধুরী কয়েকটি টিভি টক শোতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। একই সঙ্গে মাহী এ শর্তও দেন- বিএনপিকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় আসতে হলে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়ে আসতে হবে। মাহীর এ বক্তব্যকে বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রহণ করতে পারেননি। তাদের বক্তব্য- বিএনপি কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে কি রাখবে না, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বাইরের কেউ এ বিষয়ে কথা বলবে কেন? তা সত্ত্বেও দলটির শীর্ষ নেতারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার জন্য এক রকম পাগলপারা হয়ে ওঠেন। ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে বিএনপি মহাসচিবসহ তিন শীর্ষনেতা বি. চৌধুরীর বাসায় গিয়ে অতীতে দলের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, যাকে অনেকেই ক্ষমা প্রার্থনা বলে অভিহিত করেছেন। মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতাদের এ কাজটিও কর্মীদের পছন্দ হয়নি। তারা এটাকে বি. চৌধুরীর কাছে বিএনপির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ বলে অভিহিত করছেন।

এদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির অংশগ্রহণ প্রশ্নে তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইতিমধ্যে বলেছেন, গণবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে ঐক্য করে বিএনপির কোনো লাভ হবে না। অন্যদিকে গত ২ অক্টোবর একটি দৈনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ড. কামালের বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে পারে বিকল্পধারা। নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বসহ বেশ কয়েকটি ইস্যু কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে বৃহত্তর ঐক্যের পথে। এ জন্য উদ্যোক্তারা বি. চৌধুরীর চেয়ে তার পুত্র মাহী চৌধুরীকে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন। পত্রিকাটি লিখেছিল, ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপকার। আর বি. চৌধুরী বিকল্পধারা, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের রূপকার। একজন দেশের সংবিধান প্রণেতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গুরুত্ব বেশি। অন্যজন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি। ফলে জাতীয় ঐক্য গঠিত হলে কে হবেন শীর্ষ নেতা- তা নিয়ে শুরু থেকেই দুটি ধারা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে আলোচনা-বিতর্ক হলেও এখন পর্যন্ত ঐকমত্য হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের শরিক দলের এক নেতা পত্রিকাটিকে বলেছেন, আমরা বিকল্পধারার চালচলন পর্যবেক্ষণ করছি। তারা যেসব দাবি ও শর্ত দিয়েছেন, তাতে কোনোদিনই ঐক্য হবে না। শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত বিকল্পধারা যুক্তফ্রন্ট থেকে ছিটকে পড়তে পারে (সূত্র :বাংলাদেশের খবর, ২ অক্টোবর, ২০১৮)। বলা নিষ্প্র্রয়োজন, পত্রিকাটির দেওয়া পূর্বাভাস সঠিক বলেই প্রমাণিত। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বিকল্পধারা শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়েছে। এ জন্য কে বা কারা দায়ী, তা নিয়ে এ মুহূর্তে বিচার-বিশ্নেষণ চললেও সবাই বলছেন, বি. চৌধুরীপুত্র মাহী চৌধুরীর কারণেই বিকল্পধারা বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় শামিল থাকতে পারল না।

এদিকে নবগঠিত এ রাজনৈতিক জোট আগামীতে দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এ জোটকে তারা আমলে নিতে চান না। এ জোট তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে বলেও তারা মনে করেন না। পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিকল্পধারা বাদ পড়ায় ২০ দলীয় জোটের অপরাপর শরিকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছে, বিকল্পধারার পক্ষ থেকে ঐক্য প্রশ্নে বিএনপির ওপর যেসব শর্তের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, এখন তা থেকে দলটি নির্ভার হতে পেরেছে। ২০ দলীয় জোট অক্ষুণ্ণ রেখে বৃহত্তর ঐক্যের তৎপরতা চালাতে বিএনপির এখন আর সমস্যা হবে না।

এদিকে বিকল্পধারা অভিযোগ করেছে, ষড়যন্ত্র করে তাদেরকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, জোট গঠনের বৈঠকগুলোতে বিকল্পধারা কিছু বিষয়ে চাপ দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি; তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গেছেন।

ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ার পর বিকল্পধারা নতুন সমস্যায় পড়েছে। মাহী চৌধুরীর বাড়াবাড়ির কারণে দলের এ পরিণতির জন্য ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা বিকল্পধারা থেকে বেরিয়ে এসে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতা ও বিকল্পধারার সহসভাপতি শাহ আহমদ বাদল এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বিকল্পধারার ৭১ সদস্যের অপূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির যে ২৫-২৬ জন নেতা সক্রিয় আছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৭-১৮ জন দু’একদিনের মধ্যেই বি. চৌধুরীর নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে এসে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন। এ ঘটনা ঘটলে বিকল্পধারা যে একটি বিকলাঙ্গ দলে পরিণত হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- নামসর্বস্ব কয়েকটি দলের সঙ্গে কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে বিএনপির কতটা লাভ হলো? তারা বলছেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল দুটির একটি। আর বর্তমানে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল। সে হিসেবে বৃহত্তর কোনো ঐক্য হলে বিএনপিরই তাতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্ব মেনে ঐক্য প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের কোনো অবস্থান নেই। বলা বাহুল্য, এ জাতীয় ঐক্য গঠনের মূল লক্ষ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে নির্বাচনে এসব দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা হিসাবে রাখা দরকার ছিল বিএনপির। অনেকের মতে, যাদের ঐক্যে অংশীদার হওয়ার জন্য বিএনপির দ্বারেই ধর্ণা দেওয়ার কথা ছিল; দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের কাছেই ছুটে যেতে হয়েছে বিএনপিকে। এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। তাদের কথা হলো, যেসব দলের বিএনপির একটি উপজেলার কর্মীর সমান সংখ্যক নেতাকর্মী সারাদেশে নেই, সেসব দলের কাছে বিএনপি কেন করুণা ভিক্ষা করতে যাবে? তা ছাড়া যে নির্বাচনের জন্য এ ঐক্য, সে নির্বাচনে এসব খুচরা দলের গুরুত্ব কতটুকু, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিএনপি যদি ২০ দলীয় জোট অক্ষুণ্ণ রেখে নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে যে ফলাফল করবে; ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে করলেও ফলাফলে তেমন হেরফের হবে না। বরং আসন বণ্টন প্রশ্নে যে জটিলতার সৃষ্টি হবে, তাতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে মনোমালিন্য দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্বাচনের বাকি আছে আর সাকল্যে তিন মাস। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, তারা খুব শিগগিরই দেশের বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবেন এবং সারাদেশ সফর করে তাদের ৭ দফা দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলবেন। এদিকে আগামী মাসে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

দেশের রাজনীতির দুই দিকপাল ড. কামাল হোসেন ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে সে প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়লেন ডা. বি. চৌধুরী। বলা যায়, এক পা ভাঙা নিয়েই পথচলা শুরু করল ঐক্যফ্রন্ট। এ অবস্থায় নতুন এ জোট দেশের রাজনীতির বন্ধুর পথে কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মহিউদ্দিন খান মোহনঃ রাজনৈতিক বিশ্নেষক

স্যেজন্যঃ সমকাল