রামু একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস বিরোধী সভায় ওসি মনসুরঃ চোর-ডাকাত-অপহরণকারিদের স্থান হবে কবরে

সোয়েব সাঈদ, রামুঃ
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আবুল মনসুর বলেছেন, ‘এলাকায় অপহরণ, চুরি-ডাকাতি হলে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। এদের স্থান হবে কবরে, পৃথিবীতে নয়,। সরকার আমাকে রামুর আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছে, এ দায়িত্ব পালনে আমি প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাবো। এজন্য চোর-ডাকাত কিংবা মাদক ব্যবসায়িদের ব্যাপারে কোন তথ্য থাকলে থানায় জানাতে হবে। তথ্য প্রদানকারির পরিচয় গোপন রাখা হবে’। তিনি বলেন, মাদক, ইভটিজিং, জঙ্গী-সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এসব অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িতরা সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্তরায়। এদের প্রতিহত করতে আইনশৃংখলাবাহিনী কঠোর হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ সর্বস্তুরের জনতাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, আবুল কালাম আজাদ ব্যক্তি উদ্যোগে জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে অন্ধকার এ জনপদকে আলোকিত করছেন। তিনি চাইলে এখানে খামার বা শিল্প কারখানা করে নিজে স্বালম্বী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি মানুষের কল্যাণে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। এলাকার শিক্ষা প্রসারে আবুল কালামের মত ব্যক্তি দেশে বিরল। এখন সবার উচিত এ বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সাধ্যমত সহযোগিতা করা।

রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত মাদক, ইভটিজিং, জঙ্গী-সন্ত্রাস প্রতিরোধে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকাল তিনটায় একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তরুন সমাজসেবক আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক।

সভাপতির বক্তব্যে একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকায় শিক্ষার প্রসার যেমন জরুরী, তেমনি এলাকাকে অপরাধমুক্ত করাও জরুরী। তাই এনিয়ে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এজন্য তিনি রামু থানা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়াও তিনি আগামীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন বলে ঘোষনা দেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নীতিশ বড়ুয়া, চেইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আহমদ কুতুবী, পানেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনির আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড রামুর সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টো, মহিলা ইউপি সদস্য রাশেদা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য নুরুল হাকিম, নুরুল ইসলাম, দিলোয়ারা বেগম প্রমূখ।

সহকারি শিক্ষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় দৈনিক আমাদের সময় এর রামু প্রতিনিধি সোয়েব সাঈদ, দৈনিক বাঁকখালী’র রামু প্রতিনিধি খালেদ হোসেন টাপু, বিজয় টিভির প্রতিনিধি শাহ আলম, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইয়াছমিন আকতার, মো. সিরাজুল ইসলাম, আবদুর রহিম, জয়সেন ধর, আলি আহমদ সিফাত, এরশাদ উল্লাহ, শাফিয়া সুলতানা, আকিবুল হোছাইন, এম আবুল মনছুর, নাছির উদ্দিন, খালেদ জাহেদ, মিজানুর রহমান, মোক্তারুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমান সহ বিদ্যালয়ের অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার সর্বস্তুরের জনতা উপস্থিত ছিলেন।