অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে: ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ
অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ওবায়দুল কাদের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিতব্য পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘গাঙচিল’-এর শুভ মহরত অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার ছোট আকারের হবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। যেসব সংস্থা, মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত, তারা তখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। সরকার সহযোগিতা করবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন এলে অনেক রকমের খেলার বিষয় সামনে চলে আসে। নির্বাচন যখন আসে, তখন অনেক বিষয় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে; অনেক খেলা জমে ওঠে। এতে নির্বাচনের কোনো ক্ষতি হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটি পর্ব শেষ করে তারা (বিএনপি) জাতিসংঘের কাছে নালিশ করল, কান্নাকাটি করল, আমাদের দেশের জনগণকে ছোট করল, গণতন্ত্রকে অপমান করল। তারা বলল, তাদের জাতিসংঘ মহাসচিব আমন্ত্রণ করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব তখন ঘানায়। বিএনপি নেতারা জাতিসংঘ অফিসের নিচে গিয়ে বারবার অনুরোধ করে নিচের পর্যায়ের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কেউ তাদের দাওয়াত করেনি, কোনো লিখিত আমন্ত্রণপত্র তাদের কাছে ছিল না। লবিস্ট নিয়োগ করে তারা টাকা দিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছে। তৃতীয় সারির একজন কর্মকর্তার সাক্ষাৎ লাভ করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের নামে যারা মিথ্যা আমন্ত্রণের সংবাদ পরিবেশন করে, তাদের বাংলাদেশের মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার দিন শেষ হয়ে গেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সরকারের অধীনে থাকবে। তাই সেনা মোতায়েনে নির্বাচন কমিশন সরকারকে অনুরোধ করতে হবে এবং সরকার যদি মনে করে, তাহলে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ের নিরিখে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মালা গলায় পরবে। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে নৌকাই আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ওয়ার্কচার্জড শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের আদেশ প্রদানের প্রেক্ষাপটে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নাশকতার ছক কষছে। ২০১৪ সালের মতো বিএনপি-জামায়াত দেশকে নাশকতা ও সহিংসতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এ দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও নারীসমাজকে সঙ্গে নিয়ে সেই নাশকতা-সহিংসতার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, একটি দল বিদেশে ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু ধরনা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। তাদের কেউ ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। তিনি অনুষ্ঠানে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচনে তারা নৌকার পক্ষে থাকবেন কি-না। জবাবে শত শত শ্রমিক-কর্মচারী হাত তুলে দাঁড়িয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন খন্দকার প্রমুখ।