রামু কলেজসহ জাতীয়করণ হওয়া ২৭১ কলেজের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত

অনলাইন ডেস্কঃ
ঈদের আগে সরকারি হওয়া ২৭১টি কলেজের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) আর কলেজগুলোর সভাপতি থাকতে পারছেন না। শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষ আপদকালীন কলেজগুলো পরিচালনা করবেন।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা ‘সরকারিকৃত কলেজের আর্থিক বিষয়সহ অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদন’ শীর্ষক এক আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, আদেশটি এরইমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিফতরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এবং ২৭১ কলেজের অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জারি হওয়া আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮ এর আলোকে ইতোমধ্যে ২৭১টি কলেজ সরকারি করা হয়েছে বিধায় সরকারিকৃত কলেজের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম বিলুপ্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আত্তীকৃত না হওয়া পর্যন্ত কলেজের আর্থিক বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম যৌথস্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। এক্ষেত্রে জেলা সদরে অবস্থিত কলেজের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং উপজেলার মধ্যে অবস্থিত কলেজের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এই ২৭১টি কলেজে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পেতে আপাতত কোনো সমস্যা না থাকলেও ননএমপিও, খণ্ডকালীন ও অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা ছাড়া তাদের বেতন ভাতা দিতে পারবে না।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, কলেজগুলো সরকারি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য বেতন বিলের কপিতে জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেয়ার কথা বলা হয়েছে অধ্যক্ষদের।

তিনি বলেন, বেতন-ভাতা ছাড়াও অধ্যক্ষ সংশ্লি­ষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিয়ে দৈনন্দিন খরচ করতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই কলেজে আয়কৃত টাকা অন্যকোনো খাতে খরচ করতে পারবেন না। যদি কোনো অধ্যক্ষ বেহিসেবি টাকা খরচ করেন তাহলে তার আত্তীকরণ প্রক্রিয়া আটকে যাবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়। কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারায়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সিগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ীর ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জের ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলের ৮টি, জামালপুরে ৩টি, শেরপুরের ৩টি, চট্টগ্রামের ১০টি, কক্সবাজারের ৫টি, রাঙামাটির ৪টি, খাগড়াছড়ির ৬টি, বান্দরবানের ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে একটি করে, কুমিল্লায় ১০টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬টি, চাঁদপুরে ৭টি, সিলেটে ৯টি, হবিগঞ্জে ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি, নাটোরে ৩টি, পাবনায় ৭টি, সিরাজগঞ্জে ৩টি, নওগাঁয় ৬টি, বগুড়ায় ৬টি, জয়পুরেহাটে একটি, রংপুরে ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে ৭টি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১টি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় ২টি, চুয়াডাঙ্গায় ২টি, সাতক্ষীরায় ২টি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীতে ৬টি, বরগুনায় তিনটি করে কলেজ রয়েছে।