তিন সিটিতে ফের ভোট চায় বাম গণতান্ত্রিক জোট

অনলাইন ডেস্কঃ
রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ‘তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন’ হয়েছে অভিযোগ করে তিন সিটিতে পুনরায় ভোটের দাবি জানিয়েছে সিপিবি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ আটটি বাম দলের জোট।

সোমবার ভোটগ্রহণের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাম গণতান্ত্রিক জোট এই দাবি জানায় বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট গ্রহণের সময় ভোট জালিয়াতি, গুলিবর্ষণ, নিপীড়ন, মেয়র প্রার্থীর ওপর বর্বরোচিত হামলা, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, তিন সিটি করপোরেশনে নানা ‘অপতৎপরতার’ মধ্য দিয়ে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার ‘কেড়ে নেওয়া’ হয়েছে। সরকারি দলের প্রার্থী-পুলিশ-নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন ‘যৌথ তৎপরতার মধ্য দিয়ে’ এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেও ‘তামাশায়’ পরিণত করেছে।

চলতি জুলাইয়ে গঠিত এই জোটের অভিযোগ, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের তৎপরতা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আওয়ামী লীগের ‘একতরফা দেশ শাসনের ধারাবাহিকতা’।

বিবৃতিতে বলা হয়, “এই নির্বাচন বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ কোনো ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য বা গণতান্ত্রিক কায়দায় করার বিন্দুমাত্র কোনো ইচ্ছা এই আওয়ামী লীগ সরকারের নেই।”

বিএনপির দিক থেকেও একই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যায়িত করেছেন।

সিলেটে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক, তিনি তা প্রত্যাখান করবেন। বরিশালে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজের ভোটই দেননি।

অনিয়মের অভিযোগে বরিশালের বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহাবুব মাঝ বেলায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সিপিবির আবুল কালাম আজাদ, বাসদের মনীষা চক্রবর্ত্তী, জাতীয় পার্টির মো. ইকবাল হোসেন নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা বরিশালে সিপিবির মেয়রপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের পোলিং এজেন্টদের ‘নিগৃহীত’ করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে, কাস্তে মার্কায় ভোট দেওয়া ব্যালেট পেপার ‘ছিনিয়ে নিয়েছে’।

এছাড়া রাজশাহীতে গণসংহতির প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদের প্রধান পোলিং এজেন্টের ওপর ‘হামলা ও দুর্ব্যবহার’, তাকে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, সিলেটে সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থী আবু জাফরও ‘একই ধরনের আচরণের’ সম্মুখীন হয়েছেন।

তিন সিটি করপোরেশনেই সরকারদলীয় সমর্থকরা ভোটারদের ‘ভয়ভীতি দেখিয়েছে’ এবং এসব নিয়ে অভিযোগ করা হলেও রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি বলে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অভিযোগ।

“অর্থ, অস্ত্র ও প্রশাসনের ক্ষমতার সাথে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও ছিল ন্যক্কারজনক। তারা বাংলাদেশে নির্বাচনকে, ভোটের অধিকারহরণকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দেওয়ার কাজটিতে বৈধতা প্রদান করেছে।”

নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বর্তমান ইসির পদত্যাগ দাবি করা হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের দাবি তোলা হয়।

সেখানে বলা হয়, “জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে গঠিত নতুন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন ছাড়া ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার আর কোনও উপায় নেই।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে ওই সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজসহ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণসংহতি আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বি্ডিনিউজ