কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক

অনলাইন ডেস্কঃ
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করলেন কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রী কাদেরের কার্যালয়ে দুজনের এই বৈঠক হয়। তবে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেননি তারা।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহম্মদ আবু নাসের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে স্যারের সঙ্গে দেখা করেছেন কাদের সিদ্দিকী সাহেব। তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।”

বিকাল ৪টায় তৃণমূল বিএনপির নেতা নাজমুল হুদা যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

নিজের এক সময়ের দল আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করব না।”

বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও আওয়ামী লীগে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া কাদের সিদ্দিকী দুই দশক আগে আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগ গঠন করেন।

গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন কাদের সিদ্দিকী; পাশাপাশি বিএনপির কাছাকাছিও হতে দেখা দিয়েছিল তাকে। বিএনপির মতো কাদের সিদ্দিকীর দলও দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল।

তবে গত বছর নতুন জোট যুক্তফ্রন্টে যুক্ত হন কাদের সিদ্দিকী। এই জোটে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে নতুন রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলা এই জোটের লক্ষ্য।

দশম সংসদ নির্বাচন অধিকাংশ দল বর্জন করার প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চাওয়ার কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন।

এর মধ্যেই আকস্মিকভাবে গত রোববার সিপিবি কার্যালয়ে যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের। আওয়ামী লীগের এক সময়ের জোটসঙ্গী সিপিবিও দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।

সিপিবি কার্যালয়ে যাওয়াকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ উল্লেখ করে কাদের বলেছিলেন, তিনি সেদিন কাদের সিদ্দিকীকেও ফোন করেছিলেন।

কাদের বলেছিলেন, “আমি ফোনে কাদের সিদ্দিকী সাহেবের সাথেও কথা বলেছি। উনি গতকাল আমাকে কল করেছিলেন, কিন্তু খেয়াল করতে পারিনি। আজকে তাকে কল করেছি, কথা বলেছি। এটা একটা সৌজন্য বোধের ব্যাপার।”

কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্টে থাকা রব, বিকল্পধারার আবদুল মান্নান এবং এলডিপির অলি আহমদের সঙ্গেও ফোনালপের কথা সেদিন জানিয়েছিলেন কাদের।

এদিকে কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নাজমুল হুদা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী নির্বাচনে কীভাবে অংশগ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

বিএনপির এক সময়ের নেতা নাজমুল হুদা এখন আওয়ামী লীগের জোটে ভিড়তে চাইছেন।

তারা ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি রাখতে যাচ্ছেন জানিয়ে হুদা বলেন, “একটা আলোচনা সভা হবে। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে।”