তালেবানের গুঁড়িয়ে দেওয়া বুদ্ধমূর্তি এখন পাকিস্তানে শান্তির প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
সময়টা ২০০৭ সাল। আফগানিস্তানে তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তালেবান জঙ্গিরা। তার আঁচ এসে পড়েছিল প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও।

উত্তর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াট উপত্যকায় একটি গ্রানাইট পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা একটি গৌতম বুদ্ধের স্থাপত্য ছিল। ওই স্থাপত্যটিকে বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তালেবান জঙ্গিরা। তবে ঘটনার ১১ বছর পর ইতালির একদল পুরাতত্ত্বাবিদের সৌজন্যে স্থাপত্যটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সোয়াট উপত্যকার মঙ্গলাবর গ্রামের পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা পদ্মাসনে বসে থাকা অপূর্ব বুদ্ধ মূর্তিটি তৈরি হয়েছিল সপ্তম শতাব্দীতে। কিন্তু মাত্র ৯২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯২৬ সালে এই বুদ্ধ মূর্তির সন্ধান পান পুরাতত্ত্ববিদ স্যার ওরেল স্টিন৷ তারপর থেকেই মূর্তিটি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

কিন্তু প্রচলিত ধর্মীয় শাসনে কোনও মূর্তি থাকা বাঞ্ছনীয় নয় দাবি করে স্থাপত্যটি নষ্ট করেছিল তালেবান জঙ্গিরা৷ মূর্তিটি ধ্বংস করতে প্রায় ২০ ফুট ওপরে উঠে বিস্ফোরক লাগিয়েছিল তালেবান জঙ্গিরা। কিন্তু সবগুলো বিস্ফোরণ সফল না হওয়ায় মূর্তিটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর ২০১২ সালে মূর্তিটি পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দেয় ইতালি সরকার। পুরনো অংশ বাঁচিয়ে মূর্তিটি নতুন করে ফুটিয়ে তুলতে কাজ শুরু হয়৷ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে সেই কাজ শেষ। গবেষণাগারে বিভিন্ন ছবি এবং থ্রি–ডি প্রযুক্তির সাহায্যে মূর্তিটিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছেন পুরাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা। আপাতত এটি এখন পাকিস্তানে ভালবাসা, শান্তি, ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।

সূত্র: আজকাল