রামুর উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে স্বর্গপুরী উৎসব শুক্রবার

নীতিশ বড়ুয়া, রামু:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে ‘স্বর্গপুরী উৎসব’ আগামীকাল শুক্রবার, ২০ এপ্রিল। উৎসব উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনের কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে প্রভাত ফেরী সহকারে বুদ্ধপুজা, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ ও পুজা উৎসর্গ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টপরিস্কারসহ মহাসংঘদান, ধর্মসভা, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, অতিথি ভোজন, স্বর্গপুরী উৎসবের শুভ উদ্বোধন, সদ্ধর্ম আলোচনা সভা, স্বর্গপুরী উৎসর্গ, আলোক সজ্জা ও সমবেত প্রার্থনা।

স্বর্গপুরী উৎসবে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার পুজনীয় উপসংঘরাজ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সংঘমনীষা পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের। এতে জেলা, উপজেলার রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের শতাধিক প্রাজ্ঞ ভিক্ষু, শ্রামণ অংশ নেবেন।

আয়োজক প্রজ্ঞামিত্র বনবিহার অধ্যক্ষ সারমিত্র মহাথের জানান, ৩২ বছর আগে সর্বজন শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ভদন্ত প্রজ্ঞামিত্র মহাথের উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামবাসির সহযোগিতায় বনবিহার প্রাঙ্গনে ‘স্বর্গপুরী উৎসব’ আয়োজন করেন।২০০৭ সালে গুরু প্রজ্ঞামিত্র মহাথের’র প্রয়ানের পর থেকে তিনি এ উৎসবের ধারা ধরে রাখেন।

তিনি আরো জানান, কারুকার্জ খচিত শৈল্পিক স্বর্গপুরী মন্দিরসহ ব্যাপক আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্বর্গপুরী উৎসবকে ঘিরে উত্তর মিঠাছড়িসহ পুরো রামু উপজেলা উৎসবে মেতে উঠে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রাম থেকে বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নেচে গেয়ে বৌদ্ধ কীর্তন সহকারে বিভিন্ন দল স্বর্গপুরী এবং সংসারচক্র মেলায় যোগদান করেন।এসব নৃত্যদলকে স্থানীয় ভাষায় ‘কান্ডবাজি’ বলা হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া উৎসবে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এই উৎসব উপভোগ করতে আসেন। সম্প্রীতির এই উৎসবের ছোঁয়া পেতে সবাই যেন মুখিয়ে আছে।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, স্বর্গপুরী উৎসব এটি কালে সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ অংশে পরিণত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষকে মূলত জীবদ্দশায় মানুষ যে কর্ম করে সেই কর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন কুলে তার জন্মান্তর ঘটতে পারে এমন ধারণা দেওয়া হয়। সংসারে মানুষ জন্ম-মৃত্যুর গোলকধাধাঁয় পড়ে ভবচক্রে ঘুরতে ঘুরতে কখনো স্বর্গও লাভ করতে পারে। কিন্তু সেখান থেকেও নির্দিষ্ট একটা সময়ের পরে তাকে চ্যুত হতে হয়। নিজ নিজ কর্মগুণে বা কর্মদোষে মানুষ বিভিন্ন কুলে জন্ম গ্রহণ করছে এমন বৌদ্ধিক ধারণা থেকে উক্ত স্বর্গপুরী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।