এইচএসসির ফাঁকে ফাঁকে ইউপি ভোটের ভাবনা

এইচএসসি পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করতে চাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী রোববারের মধ্যে প্রথম ধাপে অন্তত চারশ’ ইউপিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী।

আইন সংশোধনের পর এবার ইউপিতে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধির দু-একদিনেসর মধ্যে হাতে পাওয়ার আশা করছে ইসি।

জাবেদ আলী সোমবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “বিধিমালা পেলেই তা দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। রোববারের মধ্যে প্রথম ধাপের তফসিল দেওয়া হতে পারে।”

সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম ধাপে অন্তত চারশ’ ইউপিতে ভোট করার কথা জানান তিনি।

“সাত শতাধিক ইউপি দিয়ে শুরু করব ভেবেছিলাম, এখন চারশ’ ইউপি দিয়ে শুরু করতে চাই। পর্যায়ক্রমে নির্বাচন উপযোগী ইউপিতে ভোট হবে।”

এখন সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা চলছে, যা মধ্য মার্চে শেষ হবে। প্রথম ধাপের ভোটে এ পরীক্ষার কোনো অসুবিধা হবে না। তবে ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে।

ভোটকেন্দ্র, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে ভোট করার কথা জানান জাবেদ আলী।

তিনি বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে ইউপি ভোট হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে উপযুক্ত গ্যাপে নির্বাচন করব আমরা।”

ইউপি ভোটকে সামনে রেখে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বোর্ড চেয়ারম্যানের শীর্ষ কর্মকর্তা-প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বৈঠক শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপিকা ফাহিমা খাতুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলোই তুলে ধরেছি।”

চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নজমুল হুদা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ইউপি নির্বাচনের কথা বিবেচনায় রেখে রুটিন সাজানোর পরামর্শ এসেছে।

“এইচএসসি পরীক্ষা জুন পর্যন্ত চলে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা মে মাসের মধ্যে শেষ হয়। সম্ভাব্য রুটিন নিয়ে আলোচনা করে বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমোদন নিয়েই তা কমিশনকে জানানো হতে পারে।”

জানতে চাইলে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছায়েফ উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভোটের কারণে পরীক্ষায় বড় কোনো সমস্যা হবে বলে তিনি মনে করেন না।

নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন শেষ করতে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই ভোটের তারিখ দেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা না হয়, ভোটের কাজে শিক্ষকরাও যেন থাকতে পারেন।”

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম ধাপে ভোট শেষের পর বাকি ইউপির অধিকাংশগুলোর নির্বাচন শেষ করতে হবে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মাঝখানে একদিনে কয়েকশ’ ইউপির ভোট করে বাকিগুলোর বেশিরভাগ এপ্রিল-জুনে পরীক্ষার ফাঁকে শেষ করা হবে। অন্তত ৫ দিনের গ্যাপ পেলে ভোট করতে অসুবিধা হবে না। যাতে কোনো পরীক্ষাও পেছানোর দরকার পড়বে না।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, রোববারের বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা হয়েছে। মার্চ মাসে স্বাধীনতা দিব্স থাকায় ২০ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে প্রথম দফার ভোট করার প্রস্তাব এসেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম ধাপে একদিনে ভোট করার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ