মন্ত্রী হওয়ার তালিকায় এগিয়ে প্রশান্ত বড়ুয়া ও আশেক উল্লাহ এমপি

ইমরুল কায়েসঃ

সরকারের মন্ত্রী সভায় সংযুক্ত করার পরিকল্পনায় আছে আরো ২ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ৩ জন প্রতিমন্ত্রী। দলের এক উচ্চ পর্যায়ের নেতা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রী সভায় কক্সবাজার থেকে এক জন প্রতিমন্ত্রী করা হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন ঐ নেতা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই প্রথম আওয়ামীলীগের সরকারে কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী সভায় একজন সদস্য নিতে যাচ্ছে। ১০ম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই মন্ত্রী সভায় কক্সবাজার থেকে একজন মন্ত্রী করতে চাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে যোগ্য মানুষ না পাওয়ায় এতোদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী হতে পারেন সম্ভাব্য একটি তালিকা থেকে অনেক যাচাই বাছাই করে এখন ২ জনের নাম চুড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দলীয় সুত্রটি জানিয়েছেন। এই দু’জন হলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সহ সম্পাদক প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া ও কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আশেকউল্লাহ রফিক।

আওয়ামীলীগে সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী করার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু যোগ্য ব্যক্তি না পাওয়ায় এতোদিন কক্সবাজারের কাউকে মন্ত্রী সভায় স্থান দিতে পারেননি। তবে ১২ বছর পর গত ৩১ জানুয়ারী কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়ায় কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী সভায় সদস্য করার বিষয়টি চুড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী সভায় সদস্য হতে পারেন এধরনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজারের কৃতি সন্তান, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক , সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া। তাকে টেকনোক্রেট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারের সাথে আওয়ামীলীগের পক্ষে লিয়াজো করে আসছেন প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া। যুদ্ধাপরাধিদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে সারা বিশ্বে প্রচারনা চালাচ্ছেন আওয়ামীলীগের এই সহ সম্পাদক। রাজনৈতিক বিচক্ষণ এই সাবেক ছাত্রনেতা আওয়ামীলীগের অনেক গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।ওয়ান ইলাভেনের সময় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সারা বিশ্বে আওয়ামীলীগের পক্ষে শেখ রেহেনা ও সজিব ওয়াজেদ জয় যেই আন্দোলন ও প্রচার প্রচারনা চালিয়ে ছিলেন তার সিংহভাগ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া।
মেধাবী ও দক্ষ প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়ার অনেক সৃজনশীল কর্মকান্ডের কারনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন । সারা দেশে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করে দেশ ব্যাপি ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মান উন্নয়ন করেছেন প্রশান্ত বড়ুয়া। আর সারা দেশে ১০ হাজারের ও বেশি ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর হাতে বিনামূল্যে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বিতরন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করা এই মেধাবী তরুন আওয়ামীলীগ নেতা। সব ঠিক থাকলে আগামীতে মন্ত্রী সভায় সংযুক্ত হতে পরেন কক্সবাজারের এই কৃতি সন্তান।

কক্সবাজার থেকে মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন এই তালিকায় আরেকজন হলে কক্সবাজার ২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। পরিছন্ন ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে এই সংসদ সদস্যের নামও রয়েছে মন্ত্রীসভায় যুক্ত হতে পারে এমন সম্ভাব্য তালিকার উপরের দিকে। কক্সবাজারকে নিয়ে সরকারের মহা উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ চলছে মহেশখালি কুতুবদিয়াকে ঘিরেই। তাই এই কাজ গুলো দ্রুত বাস্তবায়নের এলাকার মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য এই এলাকার সংসদ সদস্যকেই মন্ত্রী সভায় স্থান দিতে চায় আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকরা। এছাড়া আশেকউল্লাহ রফিকের পিতা মরহুম রফিকউল্লাহ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আস্থাভাজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্যক্তিগত ভাবে আশেকউল্লাহ রফিককে পছন্দ করেন। আর ছাত্রলীগ, যবুলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসা আশেকউল্লাহ রফিক এমপির সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টিও তাকে মন্ত্রী সভায় স্থান করে নেয়ার সিদ্ধান্তে এগিয়ে রাখছেন সরকারের শীর্ষ নেতারা।

কক্সবাজার থেকে মন্ত্রী সভার তালিকা যাদের নাম ছিলো তারা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, পরিবেশ বিজ্ঞানী আনসারুল করিম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নামও।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মালিকানা বিক্রয় নিয়ে সমালোচিত হয়ে শেখ হাসিনার আস্থা হারিয়েছেন সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন সিআইপি। সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাক আহামেদ চৌধুরী জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকায় তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাককেও তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব থাকায় পরিবেশ বিজ্ঞানী আনসারুল করিমকেও তালিকায় রাখা হয়নি। আর ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরন করা ও জেলা আওয়ামীলীগের কর্মকান্ডে সময় দেয়ার জন্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নাম।

সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে অল্পদিনের মধ্যে আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রীসভায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হবেন কক্সবাজারের প্রতিনিধি।এছাড়াও খুব শিগগিরই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) গঠন করা হচ্ছে। একই সাথে গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নির্বাচিত করা হবে কক্সবাজারের একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে।