আ.লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের এইদিনে প্রতিষ্ঠিত দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলার আপামর মানুষের গণআস্থার দলে পরিণত হয়।

৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য ওঠার সাথে সাথে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।

এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় টুঙ্গীপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দলের গৌরবোজ্জ্বল ৬৮ বছর পূর্তিতে গৃহীত কর্মসূচি সফল করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জেলা, উপজেলাসহ সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকার স্বামীবাগের রোজ গার্ডেন আর ১৫০ নম্বর মোগলটুলির শওকত আলীর বাসভবন। কলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকায় এলে তিনি শওকত আলীকে মুসলিম লীগ ছেড়ে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। এ পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ববঙ্গ কর্মীশিবিরের নেতাদেরকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। ১৫০ নম্বর মোগলটুলির শওকত আলীর বাসভবন ও কর্মীশিবির অফিসকে ঘিরে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতিমূলক তৎপরতার পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন স্বামীবাগের রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের (পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ) জন্ম হয়েছিল।

দলটির জন্ম যে মোটেই সুখকর ছিল না। জন্মলগ্ন থেকেই আজ অবধি নানান ধরনের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৬৮ বছরে তার বিরাম নেই। বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে কখনও বিরোধীদলে, কখনও সরকারে থেকে দেশ গঠনে অনন্য অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের কাদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের আস্থার ঠিকানা। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, সর্বশেষ সামরিক স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের প্রতিটি অর্জনের সংগ্রাম-লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী একটিই রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতির প্রতিটি অর্জনেরও প্রাচীন রাজনৈতিক দলটি।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এরপর আবার বিরোধীদলে। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দশম পর্যন্ত টানা দুই বার সরকার গঠন করে দলটি। টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীনের ফলে সরকার ও আওয়ামী লীগ যেন একাকার হয়ে গেছে। দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন টার্গেট করে ভিশন পানে দূরদৃষ্টি স্থির করে এগিয়ে চলছে দলটি।

রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।