একটি গ্রাম্য পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা

সিপ্ত বড়ুয়া:

একটি পাঠাগার শত শত জ্ঞানপিপাসু মানুষের আজীবন সাধনালব্দ জ্ঞানের ভাণ্ডার। একটি পাঠাগারে থাকে শত শত বই, গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান কাহিনী সহ হরেক রকমের বই। এমন অনেক লেখকের বই পাঠাগারে থাকে যারা সারাজীবন ব্যয় করেছে শুধু লেখালেখির মধ্য দিয়ে।

একটি গ্রাম মানে আদিম কালের বুড়োদের ছোট-বড় শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের শহর। গ্রামে হরেক রকমের মানুষ থাকে। খুব কম ছেলে-মেয়ে থাকে যারা একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য বা বিজ্ঞান অথবা আলাদা জ্ঞান সঞ্চারের জন্য বই পড়ে। তবে তা বলে এই নয় যে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা কম মেধাবী বা লেখাপড়া কম করে! মূলত গ্রামের ছেলে-মেয়েদের অন্য জ্ঞানের বই হাতের কাছে পাওয়া এবং শিল্প-সাহিত্য নিয়ে চিন্তা করা শিখে উঠে না কারণ এখনো পর্যন্ত বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ মানে অভিভাবক’রা অসচেতন।

আমি মনে করি একটি মানুষ তখনি পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে যখন সে সমাজের চারদিক নিয়ে বিবেচনা করতে শিখে। একজন মানুষ তখনি সমাজের চারদিক নিয়ে বিবেচনা করতে পারবে যখন সে সমাজের চারদিকের অবস্থা এবং নানান বিষয়ের উপর জ্ঞান আহরণ করবে। এখন আমাদের সমাজের চারপাশ নিয়ে জানতে হলে, বিশ্বকে এক জায়গায় বসে দেখতে হলে প্রয়োজন নানান আঙ্গিকের বই। কেবল বই’ই পারে বিশ্বকে আমাদের কাছে সহজলভ্য করে দেখিয়ে দিতে।
জ্ঞান আহরণের প্রথম শর্ত হলো বই পড়া এবং বইয়ের মাঝেই নিজেকে আবিষ্কার করা।

একটি গ্রামে থাকে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী যাদের নানান বই পড়ার ইচ্ছে থাকা শর্তেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বই পড়তে পারে না, এই না পারার কারণেই শিক্ষার মাঝেও অশিক্ষা থেকে যায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। কেবল মাত্র ভালো বইগুলো পড়ার মধ্য দিয়েই ধর্মান্ধতা, অশিক্ষা, আত্মকেন্দ্রিকতাসহ বাংলাদেশের বর্তমানে যে প্রধান সমস্যা জঙ্গিবাদ তা দূর করা সম্ভব।

আমরা সচরাচর দেখে থাকি গ্রামে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অল্প বয়সেই গ্রাস করে মাদক এবং আত্মকোন্দল, এই সব সমস্যাগুলো দূরীকরণেও বই পড়ার প্রয়োজনীতা অপরিসীম। তাছাড়া গ্রামে আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে নারী-পুরুষ বৈষম্য। এক ছেলে পাড়ার অন্য মেয়ের সাথে লজ্জায় কথা বলে না বা অন্য নানান কারণে দূরত্ব সৃষ্টি করে। একটি গ্রাম্য পাঠাগারের মাধ্যমে নারী – পুরুষদের এক আঙ্গিনায় আনা যায় এবং এই বৈষম্য সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব।

সর্বোপরি গ্রামের নানান দিক উন্নয়ের প্রথম শর্ত একটি পাঠাগার নির্মাণ, এই কথা এই কারণেই বলছি একটি গ্রামের মানুষের মনন-চিন্তাশক্তি যতক্ষণ না উন্নত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন উন্নয়ন ফলপ্রসূ নয়। সুতরাং আমি মনে করি “একটি গ্রাম, একটি পাঠাগার” এই স্লোগান বাস্তবায়ন করা অতি জরুরী। উন্নয়নের প্রথম শর্ত সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। সুতরাং, সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক বিশ্ব। প্রতিটি গ্রামে হোক একটি পাঠাগার।