রামুতে বেতারের বহিরাঙ্গনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে বুলবুল আকতার ও বিয়ের হঁলা- শিবা বাঁশর আগায় আগায় মাইকর হরন বাইন্দে….

সুনীল বড়ুয়া:
‘শিবা বাঁশর আগায় আগায় মাইকর অরন বাইন্দে,গুরা দুলা হাকসবাজার গেইয়ে রে হাই হাই রে’, ‘মল্কা বানুর দেশেরে,বিয়ার বাদ্য আল্লাহ বাজেরে,মলহার বিয়া অইব মনু মিয়ার সাথে রে,। ঐতিহ্যবাহী বিয়ের হঁলার সাথে গ্রামীণ ঢংয়ের নৃত্যে ফুটে ওঠেছে গ্রাম বাংলার বিয়ের সেই চিরচেনা দৃশ্য। আর বুলবুল আকতারের কন্ঠে আঞ্চলিক গানের সঙ্গে দর্শকদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস আবার প্রমান করিয়ে দিল দর্শকদের কাছে কতটা জনপ্রিয় এ শিল্পী।

মঙ্গলবার (২ মে) বিকালে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ বেতার,কক্সবাজার কেন্দ্রের বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠানে হল ভর্তি দর্শকের মাঝে দেখা গেল এ রকম উন্মাদনা। আয়োজকেরা জানান, এফএম ১০০.৮ মেঘাহাটর্জকে শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি আরো পরিচিতি বাড়াতে বেতার স্টুডিও’র বাইরে এ বহিরাঙ্গনের আয়োজন করা হয়। বিকালে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। দীর্ঘ আয়োজনে দেশের গান,রবীন্দ্র নজরুল,আধুনিক,লোকগীতি,ভাওয়াইয়া,লালন,হাছন রাজার গান,নৃত্যসহ দর্শক নন্দিত নানা আয়োজন থাকলেও ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে বিয়ের হঁলা ও আঞ্চলিক গানের স¤্রাজ্ঞী বুলবুল আকতারের গান।

বেতার শিল্পী মুজিবুল হকের গাওয়া ‘হাজার বছর পরে…বাংলার বুকে আছি’ এই গানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর পর মারুফা জান্নাত তৃষা গেয়েছেন ‘একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে’। দুই পর্বের অনুষ্ঠানে একে একে গান পরিবেশন করেন,আঞ্চলিক গানের জনপ্রিয় শিল্পী বুলবুল আকতার, সোনিয়া বড়ুয়া,মিনা মল্লিক,আবুল কাশেম, হাসান তারেক ,টুইংকেল,নাজনীন সুলতানা জোনাকী,অজয়,লিপি শর্মা,অদিতি বড়ুয়া মুমু ও মেহেজাবিন রুবাইয়াত ঈষিকা প্রমুখ।

শুরু থেকে ফেসবুকে লাইফ সম্প্রচারের কারণে ফেসবুকেও বেশকিছু গানের অনুরোধ আসে। এসব গানও গেয়ে শোনান বেতার শিল্পীরা।
unnamed

প্রধানমন্ত্রীর দশটি বিশেষ উদ্যেগের অন্যতম একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নিয়ে মাষ্টার এরশাদুল হকের লেখা নিজের সুর করা উন্নয়ন মূলক গান পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী তুলিপ সেন গুপ্ত সুর্য। কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে মাষ্টার এরশাদুল হকের লেখা আরেকটি গান গেয়েছেন ফরমান রেজা। এ গানটিও সুর করেন কক্সবাজার বেতারের সংগীত প্রযোজক বশিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে চমৎকার দুটি নাচ পরিবশন করেন রামু ইনস্টিটিউট অব মিউজিক এর নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী কুইন, চন্দিমা, ঈপসিতা, দ্বীপজ্যোতি, আনিকা, মাহিয়া,কাব্য ও তিথি।

অনুষ্ঠানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের জীবন্ত কিংবদন্তী বুলবুল আকতার ও রামুর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের হঁলা। বুলবুল আকতার দুটি গান গেয়ে মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে চাইলেও দর্শকদের অনুরোধের মুখে শিল্পী বুলবুল আকতারকে গাইতে হয়েছে জনপ্রিয় আরো পাঁচটি আঞ্চলিক গান। মানসী বড়–য়া ও তার দলের পরিবেশনায় কয়েকটি বিয়ের হঁলায় ফুটে ওঠেছে গ্রাম বাংলার বিয়ের চিরচেনা সেই দৃশ্য।

শুরুটা ঘটকের মাধ্যমে বিয়ের কথা পাকাপাকির আলাপ চারিতা দিয়ে। এর পরে,সদলবলে বিয়ে বাড়িতে আসলো বরযাত্রী। অনেকটা ঘটা করে,বরপক্ষকে বরণ করে নিল কনে পক্ষের লোকজন। চললো ঠাট্টা,মশকরাও। বিয়ে বাড়ির সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় কনেকে নিয়ে বরের যাত্রা নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে। বিয়ে বাড়ির সকল আনুষ্ঠানিকতাই যেন ফুটে ওঠলো এ আয়োজনে।‘শিবা বাঁশর আগায় আগায় মাইকর অরণ বাইন্দে’ মল্কা বানুর দেশেরে, ‘ঘাড়ার আগাত গিরমি তিতাসহ এ পর্বে জনপ্রিয় বেশকিছু হঁলার সাথে গ্রামীন নাচ যেন দর্শকদের আন্দোলিত করেছে।

দু’পর্বে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মানসী বড়ুয়া, বেতারের উপস্থাপক সুনীল বড়ুয়া, অজয় মজুমদার ও আনিকা তাসনিম।

পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন-ফরমান রেজা,সুজয় বিশ্বাস,সজল,তারেক হাসান, রায়হান, রেজাউল করিম,মুজিব। অনুষ্ঠান নির্দেশনা ও সংগীত পরিচালনায় বশিরুল ইসলাম, অনুষ্ঠান প্রযোজনায় ছিলেন বেতারের সহকারী পরিচালক কাজী মো. নুরুল করিম।
unnamed

কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মো. হাবিুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তার বক্তব্য দেন জেলার বিশিষ্ঠ শিক্ষাবিদ,রামু ডিগ্রী কলেজের জ্ঞানতাপস অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশতাক আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তারা কক্সবাজার বেতার এবং এফএম ১০০.৮ এর সঙ্গে থাকার আহবান জানান।

কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ২০০১ সালের ২৪ মার্চ কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর থেকে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ কেন্দ্রটি এতদঅঞ্চলের কৃষ্টি,শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি,লোক সাহিত্য ও লোক সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচার প্রসারে কাজ করে আসছে। মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে নানা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্ঠির পাশাপাশি যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকুলীয় অধিবাসীসহ বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাহস এবং দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছে কক্সবাজার বেতার। সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৫ ঘন্টা এ এম টান্সমিটারে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পাশাপাশি ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ১০ কিলোওয়ার্ড ক্ষমতাসম্পন্ন এফ এম ট্রান্সমিটারে ১০০.৮ মেঘাহাটর্জে অনুষ্ঠান সম্প্রচার চলে আসছে। এফ সম্প্রচার চালুর পর থেকে কক্সবাজার বেতার এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। যে কেউ চাইলেই মোবাইলে ১০০.৮ মেঘাহাটর্জে কক্সবাজার বেতারের অনুষ্ঠানমালা শুনতে পারছেন।