চকরিয়ায় পৌরসভা নির্বাচন- কাউন্সিলর পদে বিএনপির একক, আওয়ামীলীগে একাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচন ২০ মার্চ। এ নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী নিয়ে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকেরা এককাট্টা হলেও কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে দ্বিধাদ্বন্ধে রয়েছেন তাঁরা। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগে একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

অন্যদিকে খোশমেজাজে রয়েছে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কারণ একটি ওয়ার্ডেও এ দলে একাধিক প্রার্থী নেই। তবে দলটি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

বিএনপি ও আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মকছুদুল হক।

আওয়ামীলীলীগে রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাহাব উদ্দিন, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নুরুস শফি এবং আওয়ামীলীগের সমর্থক ও বর্তমান কাউন্সিলর নুর হোসেন।

২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল আমিন।

তাঁর বিপরীতে আওয়ামীলীগের আছেন চারজন। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাউল হক, পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম, আওয়ামীলীগের সমর্থক আবুল কালাম ও তাঁর ছায়া প্রার্থী ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

তবে আওয়ামীলীগের আছেন তিনজন। তাঁরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বশিরুল আইয়ুব, আওয়ামীলীগের নেতা আক্কাস আহমদ ও যুবলীগের নেতা আশেকুর রহমান।

৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির একক প্রার্থী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাফর আলম।

তবে এই ওয়ার্ডে পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম ও পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম তাঁর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী।

৫ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর যুবদলের সদস্য বেলাল উদ্দিন বিএনপির একক প্রার্থী।

এ ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগে রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফোরকানুল ইসলাম তিতু, সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদান করা ফোরকানুল ইসলাম ও আওয়ামীলীগ সমর্থক জাফর আলম।

৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির একক প্রার্থী শিব্বির আহমদ। তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

তাঁর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আছেন আওয়ামীলীগের তিনজন। তাঁরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, আওয়ামীলীগের নেতা জিয়াবুল হক ও উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির এককপ্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর এনামুল হক।

তাঁর বিপরীতে আওয়ামীলীগের আছেন তিনজন। তাঁরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও পৌর মৎস্যজীবীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন।

৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির একক প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম ফোরকান।

তাঁর বিপরীতে আওয়ামীলীগের রয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মুজিবুল হক, আওয়ামীলীগের নেতা আবুল হোছন ও যুবলীগের নেতা জয়নাল আবেদিন।

৯ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভা বিএনপির অর্থ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বিএনপির একক প্রার্থী।

তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ওয়ার্ড যুবরীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। এক প্রার্থীর ভয়ে আরেক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা যাচ্ছে না।

চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দিন ফরায়েজি আমাদের রামুকে বলেন, ‘চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির ঘাঁটি। এছাড়া আমরা ৮টি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দিতে পেরেছি। ভোট কারচুপি না হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি আমরা।’

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম আমাদের রামুকে বলেন, ‘আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রত্যেকে যোগ্য। একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামীলীগের বিশাল উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে তাঁদের মাঠের অবস্থা ভালো।

আমরা জরিপ করে দেখেছি, বেশির ভাগ ওয়ার্ডেই আওয়ামীলীগের নেতারা কাউন্সিলর পদে জিতে আসবেন। এ কারণে একাধিক প্রার্থী থাকলেও তাঁদের ওপর কোনো চাপ দেওয়া হয়নি।’