রামুতে সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ নন্দন’র আয়োজনে শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা’কে সংবর্ধনা

খালেদ শহীদ, রামু:
রামুতে উপমহাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ দেশ বরেণ্য শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা’র সম্মানে সংবর্ধনা ও সংগীতের আসর ‘নন্দনালোক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জীবনকে সুন্দর করে গড়তে নন্দন’ শ্লোগানে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা ও সংগীতের আসর ‘নন্দনালোক’ আয়োজন করে সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ ‘নন্দন’।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রামু কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশতাক আহমদ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর। মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগণ মাঝে, বিশ্বজগত মণিভূষণ বেষ্টিত চরণে’ নন্দন শিক্ষার্থীদের সমবেত কন্ঠে ধ্বনিত হলো উদ্বোধনী সংগীত। এ সময় অতিথিরা প্রজ্জ্বলন করেন মঙ্গলপ্রদীপ। গানে গানে অতিথিরা মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে সংবর্ধনা ও সংগীতের আসর ‘নন্দনালোক’ উদ্বোধন করেন।

সন্ধ্যে ঠিক সাড়ে সাতটায় নন্দন অধ্যক্ষ ফারুক আহম্মেদ সংবর্ধিত অতিথি ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা ও তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীনি শিল্পী জয়ন্তী লালা সহ অতিথিদের নিয়ে মঞ্চে উঠেন। মঞ্চে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা’র হাতে ক্রেষ্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধিত করেন, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোশতাক আহমদ ও নন্দন অধ্যক্ষ ফারুক আহম্মেদ।

তাঁর সম্মানে মানপত্র ‘প্রণতী কথা’ পাঠ করে সংবর্ধিত অতিথির হাতে তুলে দেন, নন্দনালোক প্রযোজনা অধিকর্তা অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া।

বিশেষ অতিথি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী জয়ন্তী লালা’র হাতে উপহার তুলে দেন, নন্দন কর্ম পরিষদ আহ্বায়ক কন্ঠশিল্পী মানসী বড়ুয়া। নন্দন’র শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পন করে অতিথিদের বরণ করে নেন।

সংবর্ধিত অতিথি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা বলেন, জীবনের ৭৭ বছর পেরিয়ে যাচ্ছি। সৃষ্টি করেছি সংগীতের অনেক ছাত্রছাত্রী। নন্দন অধ্যক্ষ ফারুক আহম্মেদ ও রেজাউল করিম আমার প্রিয় শিষ্য। তারা রামুতে শুদ্ধ সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নন্দন’র দায়িত্ব নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি তারা দু’জনই নন্দনকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে পারবে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে সংগীতের হাতেখড়ি হয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী বের হবে এই প্রত্যাশা আমার। আর্য্য সংগীত সমিতির অধ্যক্ষ ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা শুদ্ধ সংগীত চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ রামুর নন্দন ছাত্রছাত্রীদের তাঁর স্বাক্ষরে সনদ প্রদান করবেন বলে জানান।

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোশতাক আহমদ বলেন, সংগীত চর্চার মাধ্যমে নন্দন শিক্ষার্থীদের অন্বেষা, অর্জনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। রামুতে শুদ্ধ সংগীত চর্চার প্রচেষ্টাকে সুদূর প্রসারী করতে নন্দন কর্তৃপক্ষকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাজাহান আলি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী জয়ন্তী লালা, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রবীর বড়ুয়া, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাধন কুমার দে প্রমুখ।

অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া ও শিল্পী মানসী বড়ুয়া’র যৌথ সঞ্চালনায় এ সংবর্ধনা ও সংগীতের আসর ‘নন্দনালোক’ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. শাজাহান আলি বলেন, রামু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক লীলাভূমি। নন্দন’র শিক্ষার্থীরা শুদ্ধ সংগীত চর্চার মাধ্যমে রামু উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে।

Sombordhona - Copy
সংবর্ধিত অতিথি ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা ও তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীনি শিল্পী জয়ন্তী লালা’র সাথে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় শিল্পীরা

‘নন্দনালোক’ সংবর্ধনা ও সংগীতের আসরে রামুর সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ ‘নন্দন’র শিক্ষার্থী চিকু বড়ুয়া, মো. আমান উল্লাহ, মেহেজাবিন রুবাইয়াত ঈশিকা, তপসে বড়ুয়া, তাজনোভা মেহেজাবিন আনিকা, তাজকিয়া ইসলাম রিশপা, খাদিজা নূর মীম, রোদমিলা জারিয়াত অতসি, মেহেরিন রাহব্বাত ঈপসিতা, মির্জা আসিফ শাহরিয়ার, লাবন্য বড়ুয়া বর্ষা, প্রেরণা বড়ুয়া, ধনীমা শর্মা, মৈত্রয়ী শর্মা, স্বরূপা শর্মা, স্বরজিত বড়ুয়া শক্তি, অনিন্দিতা বড়ুয়া স্নেহা, শ্রাবন্তী বড়ুয়া, সুস্মিতা বড়ুয়া, ঐশ্বর্য বড়ুয়া, তিথি বড়ুয়া, শিমলা বড়ুয়া, প্রহেলী বড়ুয়া দিঘী, মনস্বিতা বড়ুয়া কুইন, অনন্দ্রিলা বড়ুয়া রিয়া, অপূর্ব বড়ুয়া রিমু, উদয় শঙ্কর ধর, অদ্রিজা বড়ুয়া তুপা, মো. তামিম ছিদ্দিক, অর্পিতা বড়ুয়া, সুপা বড়ুয়া, আজফার হোসেন কীর্তি, ফাইজা কালাম আসিফা, প্রোনিলা বড়ুয়া শ্রেয়া, তাহসীনা মেহজাবীন আনিশা, ডিনা প্রভা বড়ুয়া, বিশ্ববন্ধু কর্মকার, প্রবাহিকা বড়ুয়া মেধা, সৌমিক দে, হিমাদ্রী বড়ুয়া, সাখাওয়াত হোসেন নাহিম, সংযুক্তা বড়ুয়া সৃজা, রাজর্ষি বড়ুয়া, সানজিদা আফরিন, তাহারিমা নুফাইসা, অন্নি বড়ুয়া, ইশমাম কবির জারিফ, মাবিয়া ইসবাহ হোসাইন সাওদান, আয়ুষ দীপ্র শর্মা ওম, চন্দ্রিকা শর্মা প্রিয়সী, ওয়াসিত সরওয়ার সাহেল, তাসমিয়া হক আনিলা, আদৃতা বড়ুয়া, মুলতাযাম নাযিয়াত অদ্রী, আবসির জান্নাত অর্থী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে।

নন্দন’র শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্ভাসিত হয় নন্দনালোক। অনুষ্ঠানে তবলায় সঙ্গত করেন, শিল্পী প্রণব ভট্টাচার্য, শিল্পী লিটন দাশ ও এস্রাজ জানান রামুর সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ ‘নন্দন’র উদ্যোক্তা রেজাউল করিম রেজু।

সংগীত বড়ুয়া’র মঞ্চ সজ্জা, মো. কামালের শব্দ যন্ত্র ও আলোক পরিকল্পনা ছিল নান্দনিক। বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক, কবি, আবৃত্তিকার, নৃত্যশিল্পী ও সুশীল সমাজের অংশ গ্রহণে সংগীতের আসর মুখর হয়ে। নন্দন শিক্ষার্থীদের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শকবৃন্দ। ননন্দ অধ্যক্ষ সহ রামুর শিল্পীরাও এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।

নন্দন কর্ম পরিষদ আহ্বায়ক মানসী বড়ুয়া বলেন, সুন্দর ও বিশেষের প্রতি মানুষের আগ্রহ অসীম ও চিরন্তন। যা সুন্দর তাই সত্য। এই সুন্দর ও সত্যের নিমিত্তেই চলে মানুষের সুকুমারবৃত্তিক কর্মকান্ড। সুকুমারবৃত্তিক কর্মকান্ডের বিশেষ ও ব্যাপক ধারা সংগীত হয় ‘শুদ্ধ সংগীত’। শিক্ষা চর্চা ও পরিবেশনের মাধ্যমে শুদ্ধ সংগীতের ধারাকে প্রবাহমান রাখার মানসে ২০১০ সালে রামুতে যাত্রা করে সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ ‘নন্দন’।

Song - Copy
‘নন্দনালোক’ সংবর্ধনা ও সংগীতের আসরে রামুর সুকুমার ও ললিতকলা পীঠ ‘নন্দন’র শিক্ষার্থীরা

তিনি বলেন, ওস্তাদ মিহির কান্তি লালা’র সুযোগ্য ও আশীর্বাদপুষ্ট শিষ্য ফারুক আহম্মদ তাঁর এ গুরুভাইয়ের অনুরোধে আর্থিকদিক চিন্তা না করে, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে নন্দন’র সংগীত শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। রামুর সর্বস্তরের সুধীজন, সংস্কৃতিজন ও বিশিষ্টজনের ভালবাসা, সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নন্দন কক্সবাজার জেলায় শুদ্ধ সংগীতের ধারা প্রবাহমান রেখে সমৃদ্ধ করতে পারবে দেশের সংগীতধারাকে।

নন্দন’কে সত্য-সুন্দরের ধারায় উজ্জ্বলতর করার আহ্বান জানিয়ে ‘নন্দন’ অধ্যক্ষ ফারুক আহমদ বলেন, রামুতে শাস্ত্রীয় সংগীতের বিকাশ ঘটবে। এ জন্য রামুর সুধীজনদের সহযোগিতা দরকার। রামুতে সংগীত চর্চার সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। রামু সংস্কৃতিমনষ্ক মানুষদের এ পরিবেশ ধরে রাখতে হবে। নন্দনের পাশে থাকতে হবে।