বীচ কার্নিভালে চরম বিশৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমন্বয়হীনতায় শুরু হওয়া বীচ কার্নিভালের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ বিকাল আড়াইটায় কার্নিভালে একমাত্র ইভেন্ট কনসার্ট শুরু হয়। এতে আগত পর্যটক ও স্থানীয়দের সাথে ইভেন্টস স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে দফায় দফায় বাকবিতন্ডতা হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে দেখা দেয় দ্বিধা-দ্বন্দ। উচ্ছৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে পর্যটকদের পাশাপাশি লাঞ্চিত হয়েছে কয়েকজন পেশাদার সংবাদকর্মীও। ফলে কার্নিভাল প্রাঙ্গণ জুড়ে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। মূলত পুলিশের সাথে ম্যানেজমেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এবার বীচ কার্নিভালে শুধুই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্টে আওয়াজ শুনে অনেকেই সী-ইন পয়েন্টে ছুটে আসে। কিন্তু এসেই সম্মুখিন হতে হয় নানা বিড়ম্বনায়। আয়োজক কার্নিভাল ইভেন্টস নামে একটি আনখোরা প্রতিষ্ঠান নামে-বেনামে অনুষ্ঠানের ভিআইপি কার্ড বিতরণ করেন। এসব কার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসে অপমানিত হতে হয়। ঢাকা থেকে আনা দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা কাউকেই অনুষ্ঠান উপভোগের সুযোগ দেননি। খোদ ভিআইপি ও প্রেস কার্ড নিয়েও ঢুকতে পারেনি অনেকেই।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগতরা। অনেক সম্মানি মানুষ স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে লাঞ্চিত হয়ে নিরবে চলে যেতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কার্নিভাল নামে এটি শুধু প্রতারণা। নাম স্বর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠান কোনদিন এমন আয়োজন করতে পারে না। দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা পুলিশের সহযোগিতা না নিয়ে একতরফা ভাবে শৃঙ্খলতা ধরে রাখতে গিয়ে উল্টো হিতের বিপরীত হয়েছে। তাদের কেউ না মানার কারণে ঘটেছে একাধিক অপ্রীতিকর কান্ড। দস্তাদস্তি হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে আগত দর্শকদের।

carnival-2-copy

শামীম আহমদ নামে এক পর্যটক জানান, বীচ কার্নিভাল করা হয় পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরার জন্য। যার মূল দর্শক হচ্ছে পর্যটকরা। কিন্তু কার্নিভালে গিয়ে অব্যবস্থাপনা দেখে আমরা চলে আসি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভাবা উচিত।

স্থানীয় দম্পতি রাজু ও মিলি জানান, কনসার্টের আওয়াজ শুনে আমরা কার্ড নিয়ে ছুটে আসি। কিন্তু গেইটে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের ধাক্কা খেয়ে আমরা চলে আসি। এক স্বেচ্ছাসেবক মেয়েদেরও ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা পুলিশকেও দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। সুশৃঙ্খল ভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যরা অনুরোধ জানালেও তারা তাতে কর্ণপাত করছেনা।

অভিযোগ উঠেছে, কার্নিভাল ইভেন্টস এর নেপথ্যে কারা জড়িত এটাও সবার কাছে সুষ্পষ্ট নয়। একটি চক্র পর্যটন কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে কার্নিভালের নাম দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ বীচ কার্নিভাল করছে। ওই চক্রের সদস্যদের পকেটে পকেটে কার্নিভালে টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে চরম অসন্তোষ রয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও।