‘প্রতিদিন যদি মন্ত্রী আসতেন’প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সরকারি ডাক্তার

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সবকিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। ফাটল ধরা ছাদ ও দেয়ালসহ নানা স্থানে নতুন করে লাগানো হচ্ছে পলেস্তারা। বালতি আর ঝাড়– নিয়ে দৌঁড়াদোড়ি করছে কর্মচারিরা। দুর্গন্ধযুক্ত স্থানগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ময়লা আবর্জনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবাই কেমন যেন হাসপাতালে সিটের ভর্তি রোগীদের আদর-যত্ন করতে ব্যস্থ হয়ে গেছেন। বিছানার চাদর বদলে দিচ্ছেন। ঝাড়-মোছা, ধোয়ার কাজ চলছে সর্বত্র। পরিচ্ছন্ন প্লেট-গ্লাসে ভালো ভালো খাবার দিচ্ছেন। হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষে সুগন্ধি স্প্রে করছেন। বাথরুম গুলো ঝকঝকে-তকতকে। তবে ফ্লুরে থাকা রোগীরা পড়েছেন মহাবিপদে। তাঁদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হঠাৎ নড়েচড়ে বসা নিয়ে হতবাক রোগীরাও।

হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের এক রোগী জানিয়েছেন, গতকাল সকালে তাঁর ঘুম ভেঙেছে সিস্টারের (সেবিকা) ডাক শুনে। তিনি অবাক হচ্ছেন, হাসপাতাল কর্মচারী থেকে চিকিৎসক সবাই ছোটাছুটি করছেন। ফ্লুরে থাকা রোগীদেরকে চলে যেতে বলছেন। দৌড়ে বেড়াচ্ছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আজ এমন কী হলো। হাসপাতালে অন্য দশদিনের চেয়ে ভিন্ন এক দিনের শুরু করলেন এই রোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ শুক্রবার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার আসবেন। তিনি যেকোন সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে পারেন। তাই হাসপাতালের বড় কর্তা থেকে পরিছন্ন কর্মী কারও ঘুম নেই। সবাই গলদগর্ম।

নিলিমা আক্তার নামের এক ভর্তি রোগী রসিকতা করে বললেন, ‘নাসিম সাহেব যদি প্রতিদিন একবার করে হাসপাতালে আসতেন!’
এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এখানে শুধু নাই আর নাই। ওষুধ আছে তো ডাক্তার নাই।

ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সরকারি খাবার নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পানির সঙ্কট, বিদ্যুৎ না থাকা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিত্যদিনের ঘটনা। সরকারী ডাক্তারগণ ব্যস্থ থাকেন প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে। তাঁরা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের নিজস্ব অফিসে দিনের অধিকাংশ সময় পার করেন। এতে পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলায় বেস্তে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেবার মান।

hospital-2-copyঅভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা নাকি কক্সবাজারে বেড়াতে এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। তাই এই হাসপাতালের উন্নতি হচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী আসবেন বলে মুহূর্তেই কিছুটা পাল্টে গেছে হাসপাতালের চেহারা।

হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীরা বলেন, ‘আগে আমরা ডাক্তারের পেছনে দৌড়ে পাই নাই। এখন তারা (ডাক্তার) আমাদের পেছনে দৌড়াচ্ছে। একটু পর পর এসে খবর জানছেন কোনো সমস্যা আছে নাকি।’

hospital-3-copyনিলিমা আক্তার বলেন, ‘আগে তো খাবার চাইতে সাহস পেতাম না। একটু দেরি হলে বলত কিনে এনে খান। গতকাল বিকেল থেকেই ভালো ভালো খাবার পাচ্ছি। পেট ভরে খাচ্ছি। ’

জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক এস এম আবু সাঈদ আমাদের রামু কে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ না হয় কাল সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এতো বড় একটা মানুষ আসছে হাসপাতালতো পরিষ্কার করতেই হবে। তাছাড়া বাকি সবগুলোও ঠিক রাখতে হচ্ছে।