সরকারকে বার্তা দিতে চায় বিএনপি

দীর্ঘদিন বড় ধরনের কর্মসূচি থেকে কার্যত দূরে থাকা বিএনপি এবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের মাধ্যমে সরকারকে ‘জনপ্রিয়তার’ বার্তা দিতে চায়।

দলটির নেতারা বলছেন, এবার সমাবেশ থেকে প্রমাণ করতে হবে, বিএনপি এখনও বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। বিএনপির থেকে বড় কোনো রাজনৈতিক দল নেই।

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ওইদিন অথবা পরের দিন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে বিএনপি। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা কর্মসূচিকে প্রতিহত করার কথা বলছেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার বিপ্লবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে আসেন। এ দিবসটিকে বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগসহ জাসদ দিবসটি মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে।

৭ নভেম্বরের আগে ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। জাতীয় চার নেতাকে হত্যায় জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে বিএনপির ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বরের ঘটনা আড়াল করতে সিপাহী বিপ্লবের নামে পঁচাত্তরের ঘাতকগোষ্ঠী তথাকথিত বিপ্লব দিবস পালন করে। এইদিন তারা হাজারো সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে।’

হানিফ বলেন, ‘এই সেনা হত্যাকারীদের মাঠে নামার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিপ্লবের নামে এই ঘাতকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তবে বিএনপি প্রত্যাশা করছে, সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পথে বাধা দেবে না এবং শেষ পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি দেবে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ভাষা স্বৈরাচারি ভাষা। একদলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা রাজনীতি করছেন। আমরা বার বার বলেছি, আমরা সংঘাতের রাজনীতি চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্ট করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করব। ইতিমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি, অনুমতি পেয়ে যাবো। সরকার এখন পর্যন্ত নেগেটিভ কিছু বলেনি। আমরা আশাবাদী, সরকার পজেটিভ রেসপন্স করবে।’

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস পর কোনো বড় ধরনের সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এর আগে গত ১ মে তিনি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন।

দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই সমাবেশে স্মরণকালের সেরা জনসমাগম করতে চায় বিএনপি। এজন্য দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার বিএনপি ও সংগঠনগুলোকেও একইভাবে বলা হয়েছে। সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ লোকের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এর মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করতে চাইছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপির জনপ্রিয়তা ও সমর্থন কমেনি, বরং বেড়েছে। সরকারকে তারা বার্তা দিতে চায়।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সেইদিন যেন আমরা এমন একটা সমাবেশ করতে পারি, যা থেকে প্রমাণিত হবে বিএনপি এখনও বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। বিএনপির থেকে বড় কোনো রাজনৈতিক দল নেই- এটা আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, ‘৭ নভেম্বর স্মরণকালের সমাবেশ করতে হবে। এজন্য সবাইকে, সব স্তরের কমিটিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এই সভা থেকে সবাই এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কাজে নেমে পড়বেন, এটাই আমরা চাই।’

এদিকে সমাবেশ সফল করতে গত বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা করেন বিএনপি মহাসচিব। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে এই সভা ডাকা হয়।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি- জনসভা সফল করার জন্য প্রশাসন শিগগিরই অনুমতি দেবে।’

সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিএনপিসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান রিজভী।

এ সময় বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’

‘আমরা মনে করি-এটি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুধু অগণতান্ত্রিক আচরণই নয় বরং এটি অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে দেশব্যাপী আধিপত্য বজায়ে আরো একটি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার পুরনো অন্ধ, বন্ধ্যা, বাকশালী ব্যবস্থার মৃতদেহটাই পুণরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে”, বলেন তিনি।