যারা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ চায় না তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে: সুলতানা কামাল

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাস্থল পরিদর্শনের সময় বলেছেন, ‘যারা বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সব মানুষের দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে দিতে চায় না, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা কখনও জঙ্গিবাদের নামে, কখনও মৌলবাদের নামে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

গত ৩০ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনার পর বুধবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছেন আইন ও শালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা নাসিরনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতনের শিকার গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সামনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা এককভাবে পাকিস্তানের মতো মুসলমানের দেশ বানাতে চায় এদেশকে। এখানে অন্য কোনও ধর্মের লোক থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল সব মানুষের অধিকারকে নিশ্চিত করার জন্যে। মূল চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র। ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র এমন হতে পারে না যে কেবল আমিই থাকবো।’

এসময় সুলতানা কামালের সঙ্গে ছিলেন ‘নিজেরাই করি’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যসহ আরও অনেকে। খুশি কবীর বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘নাসিরনগরের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার দলের ভেতরে, দলের বাইরে, প্রশাসনের ভেতরে শর্ষের মধ্যে ভূত আছে। সেগুলো বের করুন। শুদ্ধি অভিযান করেন। আপনার বাবা বলেছিলেন, আমার জীবনে বড় ভুল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বানাতে গিয়েছিলাম পাকিস্তানের প্রশাসন দিয়ে। তেমনি আপনার হাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশাসন নেই। আপনার হাতের শর্ষের মধ্যে ভূত আছে।’

এসময় স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।