‘মন্দির-বাড়িঘরে হামলা ন্যক্কারজনক ও নজিরবিহীন’-মির্জা ফখরুল

ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দির ও বাড়িঘরে হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক ও নজিরবিহীন’ অভিহিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ফেসবুক পোস্টে পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা এবং এটিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত তাণ্ডব আরো একটি চক্রান্তের অংশ। এটি মহল বিশেষের গভীর ষড়যন্ত্র।’রিপোর্ট রাইজিংবিডির।

গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পেজে উস্কানিমূলক ছবি পোস্ট করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সেটিকে কেন্দ্র করে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার বিষয়টি সে অস্বীকার করেছে। সুতরাং প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না এনে একটি অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সন্দেহজনক।’

তিনি বলেন, ঘটনার জের ধরে মন্দিরসহ ১৩টি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তৎপর হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যেতো।

বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বেশি হামলা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিতান্তই পুলিশি-দমন-তৎপরতা ও মামলা হামলা নির্ভর। সেজন্য জনসমাজের সর্বত্র হিংসা ও বিদ্বেষের বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন। একে-অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা আজ দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা বিপন্ন।’

বিএনপি সব ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সকল জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা বিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই সরকারের আমলে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘাত চিরদিনের জন্য অবসান ঘটাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

মির্জা ফখরুল হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারী দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।