জনগণের মন জয়ে আচরণ সংশোধনের আহ্বান

জনগণের ভালোবাসা ও মন জয় করতে খারাপ আচরণ ত্যাগ করে শুদ্ধ ও সংশোধন হতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।খবর রাইজিংবিডির।

আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সুসময়ে সুন্দর সুন্দর স্লোগান অনেকেই দেন। গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দেন। ফুলের মালায় ভরে যায়। সুসময়ে বসন্তের কোকিল অনেক। দুঃসময়ে কিন্তু হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও অনেককে খুঁজে পাওয়া যায় না। এরা দুঃসময় এলেই চোরাই পথে পালিয়ে যায়।

এ রকম কর্মী দিয়ে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে? ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়িত হবে? নেতা-কর্মীদের প্রতি এসব প্রশ্ন ছুড়ে দেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা অনেকে ‘হাইব্রিড’ ‘হাইব্রিড’ বলে চিৎকার করে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এখন ওই ভাষা ব্যবহার করব না। ওইভাবে আমি বলতে চাই না।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদেরকে কাজ করতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। জনগণের মন জয় করতে হবে। আচরণ শুদ্ধ করতে হবে এবং সংশোধন হতে হবে। অন্যথায় অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাকশন কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখন সর্বশক্তি নিয়ে নামব, জনগণের কাছে যাব। জনগণকে খুশি করাই আমাদের পরবর্তী এজেন্ডা। যারা আচরণগতভাবে একটু খারাপ, ক্ষমতার অহঙ্কারে জনগণের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন, জনপ্রতিনিধি হয়েও অনেকের পা মাটিতে পড়ে না, তারা শুদ্ধ হয়ে যান, সংশোধন হোন।

এলাকায় গিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে আমাদের কোনো লজ্জা নেই। কারো খারাপ আচরণের কারণে আমাদের নেত্রীর অর্জনকে ম্লান করতে পারি না। ডিসিপ্লিন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হবে। এর জন্য কোনো আপোশ নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা আজ আমাদের পার্টির চেয়েও অনেক উচ্চতায়। তিনি যে শক্তি, জনপ্রিয়তা নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন, তাতে বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি যে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই আওয়ামী লীগকেও জনপ্রিয়, শক্তিশালী, আধুনিক এবং গতিময় করতে হবে। তাহলে সরকার যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই আওয়ামী লীগও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার শক্তিশালী আর আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে দল সরকারের মধ্যে হারিয়ে যাবে। সেটা আওয়ামী লীগের জন্য শুভ নয়। দলের মধ্যে সরকার হারিয়ে যাবে, সরকারের মধ্যে দল হারাবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য।

১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্ট একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা, এ দাবি করে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডটি কারাগারে ঘটে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদেরকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার জন্য এটা ছিল সুগভীর চক্রান্ত ও নীলনকশা। যেটা তারা বাস্তবায়ন করেছিল।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক সবুজ, দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ।