পেকুয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণার ১০বছর পরেও সরানো হয়নি ভবন: প্রাণহানির আশংকা

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণার ১০বছর পরেও সরানো হয়নি পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়ে পার্শ্ববর্তী ব্যস্ততম সড়কের পথচারী আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থান করা লোকজনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

সত্তর দশকের শুরুর দিকে স্থাপিত দ্বিতল ভবনটি ২০০৬সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু সংশ্লিষ্টত কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দশ বছরেও তা সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০১৩ সালের ২৬ জুন রাত ৮টার দিকে এই ভবনের ২য় তলার ছাদের একাংশ ধসে পড়ে তিনজন আহত হয়। ভবনটি যেকোন মুহূর্তে পুরোপুরি ধ্বসে পড়তে পারে। তাই এর নিচ দিয়ে চলাচল করতেও ভয় পায় সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছাদ বলতে শুধুমাত্র মরিচা ধরা লোহার রডই আছে। বাকি সব নিচে খসে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে সব দরজা জানালা। পুরো ভবনের দেয়াল ও ছাদে সৃষ্ট ফাটল চোখে পড়ার মত। দেয়ালে জন্মানো পরগাছা আস্ত গাছে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। অন্ধকার ও ভবনের নাজুক অবস্থার কারণে ভিতরে ঢুকতেই ভয়ে গা শিউরে উঠে, এই বুঝি ধ্বসে পড়লো ভবন!

pekua-2-copy কিন্তু এরপরেও ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি। ভবনটির নীচ তলায় এখনো রয়েছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’র পেকুয়া সদর ইউনিয়ন কার্যালয়, গ্রাম পুলিশদের বিশ্রামাগার, ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম। এমনকি ইউপি কার্যালয়ের ভিজিডি, ভিজিএফ কার্যক্রম পরিচালিত হয় ওই ভবনের নিচতলা থেকে।

বিগত ২৩ বছর ধরে উক্ত ভবনে নিয়মিত অফিস করা সিপিপি’র পেকুয়া সদর ইউনিয়নের টিম লিডার মঞ্জুর আলমও জানান ঝুঁকি কথা।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অফিসিয়াল কাজ সারতে চরম ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই ভবনের নিচে জনসাধারণকে না বসার জন্য ইতিমধ্যে বলা হয়েছে।

pekua-3-copyএব্যাপারে পেকুয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ আমাদের রামু কে বলেন, ঝুঁকিপুর্ণ ভবনটি সরানোর জন্য ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে অনেকবার পত্র পাঠালেও কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। ২০১৩সালে জেলা প্রশাসক ভবনটি পরিদর্শন করে তা মৌখিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও সরানোর কোন ব্যবস্থা নেননি।

তিনি আরো বলেন, আমার আগের চেয়ারম্যানও ভবনটি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্কেপক্ষের কাছে বহুবার পত্র দিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খাঁন আমাদের রামু কে বলেন, ভবনটি সরানোর জন্য জেলা প্রশাসকের কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় এতদিন সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে, এটি দ্রুত সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।