ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে হামলা: ২ মামলায় আসামি ১২শ, গ্রেফতার ৪

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের নামে গতকাল রবিবার নাসিরনগরে দিনভর সহিংসতার ঘটনায় রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় অজ্ঞাত ১২শ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাসিরনগর থানা পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারকৃতদের নাম পরিচয় জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

মামলার বাদী কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ফেইসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের নামে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা সদরে ঘোষপাড়া, দাসপাড়া, নমঃসুদ্রপাড়া, দত্তপাড়ায় কয়েকশ লোক লাঠি সোটা নিয়ে একযোগে হামলা চালায়। এসময় তারা শতাধিক বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। ভেঙে ফেলে প্রাচীন গৌরমন্দির, লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, মহাদেব মন্দিরসহ অন্তত ১০টি মন্দির। এসময় নাসিরনগর গৌর মন্দিরের সেবায়েত শংকর সেন ব্রাক্ষচারী সহ হিন্দু পাড়ার অসংখ্য নারী-পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান,‘রবিবারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলায় অজ্ঞাত ১২শ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাসিরনগর থানা পুলিশ এরইমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যা আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত ।ছবি পোস্টের কথিত অভিযোগে গতকাল (রবিবার) স্থানীয়রা এক যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকে নাসিরনগর সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে তিন থেকে চারশ লোক জড়ো হয়ে উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এবং মন্দিরের ওপর হামলা চালায়। এরপর নাসিরনগরে তিন প্লাটুন বিজিবি, দুই শতাধিক পুলিশ এবং র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।