পানির জন্য ২ কিমি পথ পাড়ি: ছড়া ঝর্ণার ওপরই নির্ভরশীল দীঘিনালার ৭০ পরিবার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়া ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা বিউটি চাকমা। পানির জন্য প্রতিদিন সকালে দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় তাকে। শুধু বিউটি চাকমা নয় এভাবে প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে হয় এলাকার ৭০টি পরিবারের।

এই পরিবারগুলোর খাওয়া থেকে শুরু করে সংসারের নিত্যদিনের কাজের ব্যবহারের জন্য ভরসা হলো ছড়া ঝরনার পানি। বৃষ্টি হলে ছড়া ঝরনার পানির গতিধারা কিছুটা বাড়লেও শুষ্ক মৌসুমে পানির গতিধারা একদম কমে যায়। যদিও এমন পানি সমস্যা তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকায়।

দীঘিনালা- বাঘাইহাট সড়ক থেকে এক কিলোমিটার ভেতরে রিজার্ভছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি নারীরা কেউ পানি খাওয়ার পানি সংগ্রহ করছে কেউবা হাড়ি পাতিল পরিষ্কার করছেন আবার কেউ অপেক্ষা করছে গোসল করতে। পাহাড়ের গায়ে বাঁশের কঞ্চি গেঁথে দেয়ায় সেখান দিয়ে অল্প অল্প পানি আসছে।

পানি সংগ্রহ করতে আসা চিত্ত রাণী ত্রিপুরা জানান, আমাদেরতো আর টিউবওয়েল নাই যে ওখান থেকে পানি সংগ্রহ করবো।

আমরা এখান থেকে(ছড়া) প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করি। এই পানি দিয়ে রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করি। অর্চনা চাকমা, রক্তিম চাকমা জানান, বর্ষায় ছড়া, ঝরনা থেকে পানি পেতে যতটানা কষ্ট তার চেয়ে বেশি কষ্ট শুস্ক মৌসুমে পানি পাওয়া। তখন পানির সংকট চরম আকার ধারন করে। তখন ছড়া, ঝরনার পানি কমে যায়। এদিকে ঐ এলাকার দুটি আনসার ক্যাম্পের ভরসা ছড়া ঝরনার পানি।

আনসার সদস্য মো. ইব্রাহিম বলেন, আমাদের ১৫/১৬জন আনসার সদস্যে এই ঝরনা থেকেই পানি সংগ্রহ করেন। এবং এই ঝরনাতেই গোসল করতে হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও ঝরনা থেকে।

রিজার্ভছড়া এলাকার বৃদ্ধ শান্তি মনি চাকমা, কৃষ্ণমনি চাকমা জানান, রিজার্ভছড়া এলাকায় ৭০টি পরিবারের বসবাস। আনসার ক্যাম্প আছে দুইটি। দোকান আছে পাঁচটি। সবার পানির একমাত্র ভরসা এই ছোট ঝরনা। বর্ষা মৌসুমে পানির গতি কিছুটা বাড়লেও শুক্ম মৌসুমে পানির গতি একদম কমে যায়। তখন দুভোর্গের আর শেষ থাকে না। তারা ঝরনাটি সংস্কার করে পানি সংরক্ষন করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির শাখার সভাপতি আবু তাহের মুহাম্মদ বলেন, পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো ব্যবহার হয়না বলে ভূগর্ভস্থ অতি ব্যবহারের কারণে পানির মজুদ কমে আসছে। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পানির সংকট তৈরি হবে। এখন থেকে পানির প্রাকৃতির উৎসগুলো ব্যবহারে সচেতন হওয়া উচিৎ।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দূর্গম পাহাড়ে তলদেশে পাথর আর পানির লেয়ার না থাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব না। তাই ছড়া, ঝরনার উপর প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের নির্ভর করতে হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here