ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি হয় তিন লাখে: শিক্ষামন্ত্রী

দৈনিকশিক্ষা:
পেশাদার প্রশ্নফাঁসকারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁস বা গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

আসন্ন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা নকলমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বুধবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রী একথা বলেন।

নাহিদ আরো বলেন, ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্ন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস করার ‘কিছু পেশাদার লোক’ আছে, তারা দীর্ঘদিন থেকে এ কাজ চালিয়ে আসছে। আর এদের সঙ্গে আরও কিছু লোক যুক্ত হয়। পেশাদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আর কিছু লোক রাজনৈতিকভাবে সরকারকে হেয় করার জন্য প্রশ্ন ফাঁস করে।

‘যারা প্রশ্ন ফাঁস বা গুজব ছড়ায় তাদের কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। এটা আরও জোরদার করা হবে। আর যারা প্রশ্নফাঁস করতে পারেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তালিকা তৈরি করেছে। তারা ছাড় পাবে না। দয়া করে অসৎ কাজে জড়িত হবেন না।’

শিক্ষক বা অন্য যে কেউ যারা এসব (প্রশ্নফাঁস) করেন তারাও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, কেউই রেহাই পাবেন না। আইসিটি আইন ও পাবলিক পরীক্ষা আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। প্রশ্নফাঁস নিয়ে আর কোনো টলারেন্স নেই।

পরীক্ষা সামনে রেখে কোচিং সেন্টারগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর এবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।

পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো রকম সন্দেহের অবকাশ নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অভিভাবক, শিক্ষক, পরীক্ষার্থীদের বলবো সবাই প্রস্তুতি নেন।

শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, স্বরাষ্ট্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রতিনিধিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।